AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

রায়পুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যা: পাঁচ দিনেও কাটেনি রহস্যের জট



রায়পুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যা: পাঁচ দিনেও কাটেনি রহস্যের জট

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীপাড় এলাকায় মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য। আলোচিত এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়দের গণপিটুনিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বপরিচয়, মাদক-সংশ্লিষ্ট বিষয়, লুটপাট অথবা অন্য কোনো পরিকল্পিত উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তবে এখনো হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার পর থেকেই রায়পুরজুড়ে শোক, আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি এ ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরিকল্পনাকারী জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনার দাবি জানান তারা।

নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, ‘একসঙ্গে আমার মা ও তিন বোনকে হারিয়েছি। এই শোক কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। প্রতিটি মুহূর্তে তাদের কথা মনে পড়ছে। আমি চাই, আমার মতো আর কোনো ভাই যেন একদিনে তার পুরো পরিবারকে হারাতে না হয়। আমি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া নয়া বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। নিহত পাঁচজনের কল রেকর্ডও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যেহেতু বাসা থেকে কোনো লুটপাটের আলামত পাওয়া যায়নি, তাই ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনসহ সব তথ্য-উপাত্ত হাতে পাওয়ার পরই হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।’

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীপাড় এলাকার একটি বাসা থেকে শাহিনুর বেগম ও তাঁর তিন মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়ে গণপিটুনির শিকার হন সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!