AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

এইচএসসি পরীক্ষার আগে মাদারগঞ্জে ভয়াবহ লোডশেডিং, চরম দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থীরা


Ekushey Sangbad
সাইফুল, মাদারগঞ্জ, জামালপুর
০৫:৫৮ পিএম, ২৮ জুন, ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষার আগে মাদারগঞ্জে ভয়াবহ লোডশেডিং, চরম দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থীরা

আর মাত্র কয়েক দিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলাজুড়ে তীব্র দাবদাহের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে তাদের পড়াশোনা, বাড়ছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ মিলছে না। অনেক এলাকায় টানা তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। আবার বিদ্যুৎ এলেও তা ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। ফলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানা গেছে, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিস ও কয়ড়া সাব-জোনাল অফিসের আওতায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় এক লাখ গ্রাহক রয়েছেন। এসব এলাকায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহের এ বিশাল ব্যবধানের কারণেই নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

পৌরশহরের জোনাইল এলাকার বাসিন্দা রানা মিয়া বলেন, “২৪ ঘণ্টায় ছয় ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না। এর মধ্যে সারারাতে তিন ঘণ্টা থাকে, দিনে সব মিলিয়ে তিন ঘণ্টাও পাওয়া যায় না। এই তীব্র গরমে সন্তানদের পড়াশোনা একেবারে ব্যাহত হচ্ছে। আমরা খুব কষ্টে আছি।”

গুনারীতলা এলাকার বাসিন্দা জহুরা বেগম বলেন, “কারেন্ট তো থাকেই না। ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। নিয়মিত বিল দিই, কিন্তু প্রয়োজনমতো বিদ্যুৎ পাই না।”
এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আর কয়েক দিন পরই পরীক্ষা। কিন্তু ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছি না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না। এ অবস্থায় কীভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেব?”
তারতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, “কারেন্ট তো থাকেই না। শুধু বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এলাকায় এসে দেখুক মানুষ কতটা কষ্টে আছে।”
এ বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “আমাদের দুটি অফিসের আওতায় মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় এক লাখ গ্রাহক রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও আমরা বরাদ্দ পাচ্ছি মাত্র ৭ মেগাওয়াট। বরাদ্দের এই ঘাটতির কারণেই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
এদিকে, এইচএসসি পরীক্ষা ঘনিয়ে আসায় পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরীক্ষার আগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হবে শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!