ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর। এ অবস্থায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলে সাদাপাথর তলিয়ে গেছে। সেখানে পানির স্রোতও অনেক বেশি। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, সকালে পানির স্রোত কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। তবে পাহাড়ি ঢল কমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৭৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে নদীটির পানি বিপৎসীমার প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী দুই দিনে ভারী বৃষ্টিপাত হলে নদীটির পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কোথাও কোথাও বিপৎসীমা স্পর্শ করারও আশঙ্কা রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কারণে সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দু–এক দিনের মধ্যে নদী দুটির বেশির ভাগ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এ ছাড়া সিলেট বিভাগের সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া ও ধলাই নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী তিন দিন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

