টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে চরের রাস্তাঘাট, ফলে অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চরবাসীর যাতায়াতের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে নৌকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষণ এবং উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগে দুর্ভোগ বেড়েছে।
তালুক বেলকা চরের বাসিন্দা মো. রয়েল মিয়া জানান, শনিবার দিনভর পানি বৃদ্ধি পেলেও রাত থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে চরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট এখনো পানির নিচে রয়েছে। অনেক মানুষ হাঁটু কিংবা কোমরসমান পানি অতিক্রম করে চলাচল করছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি বোচাগাড়ী গ্রামের জজাহিদুল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি নদীতে তীব্র ভাঙনও দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে চরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান জানান, সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তার পানি এখনো বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় চরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির ওপর স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

