ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার পীরগঞ্জ বণিক সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়-এ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকসংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত পদের অর্ধেকেরও বেশি শূন্য থাকায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে অনুমোদিত শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৩টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি বিষয়ে দুটি পদ ছাড়াও বাংলা, ভৌতবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, হিন্দুধর্ম ও আইসিটি বিষয়ের শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে বিদ্যমান শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হলেও সব শ্রেণির পাঠদান যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষক নেই। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের অপেক্ষায় ক্লাসরুমে বসে সময় পার করছে, আবার কেউ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘোরাফেরা করছে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নীলিমা রানী রায় বলেন, “ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এই বিদ্যালয়ে পড়ছি। তখন থেকেই শিক্ষকসংকট দেখছি। বিশেষ করে ইংরেজি শিক্ষকের অভাবে আমাদের পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। সামনে এসএসসি পরীক্ষা, অথচ এখনো পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই।”
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি বলে, “সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হলে ভালো পড়াশোনা করতে পারব ভেবেছিলাম। কিন্তু এখানে ইংরেজি ও বাংলা শিক্ষকই নেই। একজন শিক্ষককে একাধিক বিষয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে।”
সনাতন ধর্মের শিক্ষকের অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুশ্রী রায় নামে এক শিক্ষার্থী বলে, “আমাদের হিন্দুধর্ম বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই। অন্য বিষয়ের শিক্ষকেরা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার শান্তা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানায়।
অভিভাবক নুর আলম বলেন, “বর্তমান শিক্ষকেরা আন্তরিক হলেও শিক্ষকসংকটের কারণে সব ক্লাস ঠিকমতো নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে।”
২০১৩ সাল থেকে বিদ্যালয়ে কর্মরত গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষিকা মাসুছা সরকার বলেন, “আমি যোগদানের পর থেকেই এই সংকট দেখে আসছি। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না হলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার দিক থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, “শিক্ষকসংকটের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা অধিদপ্তরকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত সংকট নিরসন না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়বে।”
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, “আমি উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই এই সংকটের কথা শুনছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবারও তাগিদ দেওয়া হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

