মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় দু’জনেরই ডান হাত ভেঙে যায় এবং তারা গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আহত কহিনূর রহমান বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন- উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের দাশেরহাটি গ্রামের বাসিন্দা দানেছের ছেলে কহিনূর রহমান (৪৮) এবং তার ছেলে আব্দুল হালিম (২০)।
অভিযুক্তরা হচ্ছে - উপজেলার বাইমাইল গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে কহিনুর (৩০), দাশেরহাটি গ্রামের দানেছ আলীর ছেলে ইউনুস আলী (৫০), ইউনুস আলীর মেয়ে শাকিলা (২৮) ও স্ত্রী রিপন আক্তার (৪০), বেরুন্ডী গ্রামের আনোয়ার (৪৫), মৃত ইমান বেপারীর ছেলে দানেছ আলী (৬৮), দানেছ আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম (৬৩) এবং রহম আলীর ছেলে সাইমন (৩০)-কে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কহিনূর রহমানের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে কহিনূর রহমান তার ছেলে আব্দুল হালিমকে সঙ্গে নিয়ে ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে মাঠের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও ধারালো দা নিয়ে তাদের গতিরোধ করে। পরে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীদের আঘাতে বাবা-ছেলের ডান হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তাদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।
পরে তারা ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। বর্তমানে তারা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুজন, কুলসুম ও বিলকিসসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, কহিনূর রহমান ও তার ছেলে আব্দুল হালিমের ওপর অন্যায় ও ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এদিকে সোমবার বিকেলে সরেজমিনে অভিযুক্ত কহিনুর ও ইউনুস আলীসহ সংশ্লিষ্টদের বাড়িতে গিয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে বাড়িগুলো তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মীর নাজমুল হাসান বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত মামলা রেকর্ড করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা
হবে।”
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

