AB Bank
  • ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বৈশাখী মেলা ঘিরে জমে উঠেছে কেন্দুয়ার মৃৎশিল্পীদের কাজ


Ekushey Sangbad
আশরাফ গোলাপ, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা
০৮:৪০ পিএম, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

বৈশাখী মেলা ঘিরে জমে উঠেছে কেন্দুয়ার মৃৎশিল্পীদের কাজ

বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। এউৎসবকে ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি। বিশেষ করে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা এতটাই বেড়েছে যে দিন রাত তারা চোখের পাতা এক করতে পারছে না। 
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সারা বাংলাদেশের ন্যায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বসবে বৈশাখী মেলা।  

পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ও মোজাফরপুর ইউনিয়নের লস্করপুর ও গগডা গ্রামে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য মৃৎশিল্প এখনো জীবন্ত রয়েছে এই দুই গ্রামে। পরিবার ভিত্তিক এই শিল্পে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী, পুরুষ, কিশোর-কিশোরীসহ পরিবারের  সদস্যরা এবং তাদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে বদ্ধ পরিকর বলে জানান তারা।

সরেজমিনে সোমবার (১৩ এপ্রিল)  বলাইশিমুল ইউনিয়নে লস্করপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামের ৫ থেকে ৭টি পরিবার মাটি দিয়ে তৈরি করছেন নানান রকমের শিল্পপণ্য- ব্যাংক, পুতুল, ষাঁড়, গরু, ঘোড়া, হাতি, থালা-বাসনসহ নানা খেলনা ও গৃহসজ্জার সামগ্রী। এসব তৈরির জন্য ইতোমধ্যে পুকুড়িয়া হাওর ও মাটিয়ারকুড়ি বিল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এঁটেল মাটি। তৈরি শেষ হলে চলছে রঙ ও ভার্নিশের কাজ, অনেক ক্ষেত্রে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে চিত্রকর্মও।

এব্যাপারে ৬০ বছর বয়সী মৃৎশিল্পী নওমিতা রাণীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, “আমাগোর পরিবার অনেক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই কাজ করছি । পহেলা বৈশাখ, দুর্গাপূজা, ঈদ কিংবা স্থানীয় মেলা এলে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তখন পরিবারের ছোট-বড় সবাই সহযোগিতা করে। আমরা বাপ-দাদার পেশাকে ধরে রেখেছি। কারণ আমাদের আর কোনো পেশা জানা নেই। তবে এই শিল্প চর্চা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও পরিশ্রমের। নেই আধুনিক কোনো প্রযুক্তি কিংবা যন্ত্রপাতির সহায়তা। সম্পূর্ণ হাতে গড়া এসব পণ্য আজও বাজারে কদর পাচ্ছে, তবে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা।

গগডা গ্রামের হরিদাস পাল নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, বাজারে এখন মাটির তৈরি পন্যের কোনো কদর নেই। প্লাস্টিক পণ্যের ওপর মজেছে মানুষ। ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। কুমাররা কীভাবে বেঁচে আছে,তারা তাদের পারিশ্রমিক অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পায় কিনা এখোঁজ খবর কেউ রাখে না। সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা যদি এপেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই যথাযথ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেন,তাহলে মৃৎশিল্পের বিলুপ্তি ঘটবে বলে তিনি জানান।

ওদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাটির তৈরি ছোট-বড় জিনিস পত্রের মধ্যে প্লেট ১০০-১৫০ টাকা, বাটি ৬০-৮০টাকা, শানকি ১২০-১৫০টাকা, কয়েল দানি ১৩০-১৫০টাকা,
চায়ের কাপ ৮০-১০০টাকা, পানির মগ ৭০-৯০টাকা, ব্যাংক ৮০-২৫০টাকা, ফুলের ঝার ৫০ -৪৫০টাকা, কলসি ৫০-২০০টাকা, ওয়াল মেট ১৫০-৩০০টাকা, ভাতের ঢেকসি ১৫০-৩০০টাকা,পুতুল ৫০-১০০টাকা,ঘোড়া ১৫০-২৫০টাকা,হাতি ১০০-২৫০ টাকা, মূয়ুর ৬০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়।

মৃৎশিল্পীদের কাজ দেখতে আসা নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য হারিফ উদ্দিন হানিফের সাথে দেখা হলে তিনি  বলেন, "এই শিল্প আমাদের বাঙালিয়ানা ও সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক। যেভাবে তারা কাজ করছেন, তা না দেখলে বোঝা যাবে না কতোটা নিষ্ঠা ও শ্রম লাগে এতে।”

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রফিক বলেন, “এই শিল্পীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা করা হয় না। এসহযোগিতা এখন সময়ের দাবি। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করা গেলে একদিকে যেমন এই ঐতিহ্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মও আগ্রহী হবে এই শিল্পে।”

উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আবুল কাশেম আকন্দের সাথে কথা হলে, তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের মৃৎশিল্পীরা অনেক কষ্ট করে এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন। সরকারের সহযোগিতা পেলে তারা এশিল্পকে আরো ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি জানান।

এক সময় প্রায় প্রতিটি গ্রামেই দেখা যেত এমন মৃৎশিল্পের চর্চা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে গেলেও লস্করপুর ও গগডা গ্রামের এই পরিবারগুলো এখনও সেই ধারা বহন করে চলেছে। প্রয়োজন শুধু একটু যত্ন ও সহযোগিতা- তাহলেই বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প ফিরিয়ে পাবে তার হারানো গৌরব।
 

Link copied!