সারাদেশের তুলনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। এমতাবস্থায় সংসদের অধিবেশন শেষ করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নূরুল ইসলাম বুলবুল।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সামনে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “হামের প্রকোপ সারা দেশের তুলনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেশি। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারাদেশের প্রায় ১০ শতাংশ হামের রোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বয়স কম হওয়ায় এর প্রভাব শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি যদি আরও বাড়তে থাকে তাহলে শিশুদের মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেতে পারে।
যারা হামের টিকা গ্রহণ করেছেন, তাদের আক্রান্তের হার কম। তবে শিশুদের ৯ মাসের আগে হামের টিকা দেওয়া হয় না, তাই তারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে ৬ মাস বয়স থেকেই শিশুদের হামের টিকা প্রদান করা হবে। আগামী ৫ই এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট তৈরি হয়েছিল। সেই সংকট নিরসনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি ফিল্টার বসানোর নির্দেশনা দিয়েছিলাম, যা তাৎক্ষণিকভাবে বসানো হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ৮–১০টি ফিল্টার বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, আগামী ২–৩ দিনের মধ্যে সেগুলো বসানো হবে এবং এর মাধ্যমে হাসপাতালে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দূর হবে।”
এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন, “নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এই কঠিন সময়ে রোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।”
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জ এমনিতেই একটি অবহেলিত জনপদ। এখানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও ১০০ বেডের খাবার, ডাক্তার, স্টাফসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা সীমিত ছিল। ২৫০ শয্যার সকল সুযোগ-সুবিধা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন অফিসিয়াল চিঠির অপেক্ষা চলছে, আশা করছি শীঘ্রই তা সম্পন্ন হবে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ মশিউর রহমান, হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক লতিফুর রহমান, পৌরসভা আমীর হাফেজ গোলাম রব্বানী, ১০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তোহরুল ইসলাম সোহেল এবং জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

