AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় মাছ শিকার, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিক্রি হচ্ছে ইলিশ


Ekushey Sangbad
মো. রবিউল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুর
০১:২১ পিএম, ১৫ মার্চ, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় মাছ শিকার, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিক্রি হচ্ছে ইলিশ

জাটকা ইলিশ রক্ষায় নদীতে মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চললেও লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় দেদারসে মাছ শিকার করছে জেলেরা বাজারেও ওপেনে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ মৎস্য বিভাগের তৎপরতা না থাকায় জেলেরা নির্বিঘ্নে জাটকা শিকার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযানের কথা শোনা যায়।

রোববার (১৫ মার্চ) সকালে সরেজমিনে মেঘনা নদীর কমলনগরের নবীগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা দেখা গেছে নদীতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ টি মাছ শিকারের নৌকা রয়েছে। এছাড়া দুপুর ১ টার দিকেও একই উপজেলার মতিরহাট এলাকায় গিয়ে নদীতে মাছ শিকারের দৃশ্য দেখা গেছে।

নদীর তীরে জালসহ বেশকিছু মাছ শিকারের নৌকা থাকতে দেখা গেছে। এরআগে বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট মাছ বাজারে ওপেনে ইলিশ মাছ বিক্রি হতেও দেখা যায়। মতিরহাট এলাকায় স্থানীয় এক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, অভিযানের সময়েও জেলেরা মাছ শিকার করে।

এদিকে মেঘনা নদী থেকে শিকারকৃত মাছ গ্রামগঞ্জে ‍‍`ফেরি করে‍‍` বিক্রি করতে দেখা যায়। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে এক মাছ বিক্রেতা বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ বিক্রি করতে নিয়ে আসে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে এ মাছ কিভাবে আসলো- জানতে চাইলে ওই বিক্রেতা জানায়, জেলেরা নদীতে মাছ শিকার করে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে রেখে বিক্রি করে। সেখান থেকে তিনি মাছগুলো খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছেন।

জানতে চাইলে কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকতা তুর্য্য সাহা বলেন, নদীতে কোথাও মাছ শিকার হচ্ছে না। আমাদের দুটি টিম কাজ করছে। সরেজমিনে মাছ শিকারের দৃশ্য দেখা বিষয়টি জানানো হলেও তিনি মাছ শিকারের বিষয়টি মানতে নারাজ।

এছাড়া কমলনগরের হাজিরহাট বাজারে ইলিশ বিক্রির বিষয়টি অবহিত করা হলেও তিনি বলেন, মাছ ধরা নিষেধ, তবে ইলিশ বিক্রি নিষেধ নয়। যদিও মৎস্য অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়টিও উল্লেখ করা আছে। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, নদীতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।

রাতে অভিযান চালালে দিনে মাছ শিকার করে, দিনে অভিযান চালালে রাতে মাছ শিকার করে। জেলেরা মাছ শিকারের জন্য সুযোগ খোঁজে, সুযোগ পেলেই তারা মাছ শিকার করতে নামে। এতো বড় নদী, পাহারা দিয়ে রাখাও যায় না আর সামনে ঈদের কারণে জেলেরা আরও তৎপর।
বাজারে ইলিশ মাছ বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, এ সময়ে জাটকা বিক্রি নিষিদ্ধ।

বাজারে যদি ইলিশ থাকে, সেগুলো এ অঞ্চলের কিনা, সেটা দেখতে হবে। উল্লেখ্য, জাটকা ইলিশ রক্ষায় লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে জাটকা ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়৷

মার্চ এবং এপ্রিল দুই মাস অভয়াশ্রমে জাটকা ইলিশ অবাধ বিচরণ করে। জাটকা ইলিশ বেড়ে উঠার জন্য উক্ত সময়ে অভয়াশ্রমে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। এ সময়ে জাটকা আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। জেলা-উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নদীতে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ রয়েছে। 

আবার নিষেধাজ্ঞা সময়ে জেলেদের মাছ শিকারে বিরত রাখতে জেলে পরিবারকে প্রতিমাসে ৪০ কেজি করে চার মাসে ১৬০ কেজি চাল দেওয়া হয়।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!