চার লেনের ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক। দুই পাশ দিয়ে শাঁ শাঁ শব্দে ছুটে চলেছে ছোট-বড় যানবাহন। ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটেনি, তাই যানবাহনের চাপও তুলনামূলক কম। ঠিক তখনই সড়কের বিভাজকে বেড়ে ওঠা রঙিন ফুলের সারি দৃষ্টি কাড়ছে পথচারী ও যাত্রীদের। গাড়ির গতিতে তৈরি হওয়া বাতাসে দুলছে ফুলের গাছগুলো, যেন পথচারীদের সঙ্গে নীরব হাসি বিনিময় করছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই মহাসড়কের আশপাশে ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে এই সৌন্দর্যের কথা জানাচ্ছেন।
সড়কের মাঝখানে বিভাজকের সরু লাইনে দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ফুটেছে নানা রঙের অসংখ্য ফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের রঙিন অভ্যর্থনা জানাচ্ছে প্রকৃতি। এমন দৃশ্য সহজেই যে কারও চোখ আটকে দেয়।

গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহগামী প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে এমন রঙিন দৃশ্য। এর সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভাওয়ালের ঐতিহ্যবাহী শালবন। বসন্তের ছোঁয়ায় শালবন এখন ঘন সবুজে আচ্ছাদিত। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন।
মহাসড়কের বিভাজকে ফুটেছে নীল কাঞ্চন, রাধাচূড়া, অগ্নিশ্বর, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জোড়া টগর, পলাশ, গৌরীচূড়া, কনকচূড়া, কনকচাঁপা, কদম, কাঠবাদাম, জারুল ও রক্তকরবীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ। বিরতিহীন বাতাসে দুলে দুলে রঙিন সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে এসব ফুল।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার সময় ২০১৫ সালের দিকে সড়ক বিভাজকে এসব ফুলের গাছ রোপণ করা হয়। শুরুতে ফুলের আধিক্য কম থাকলেও বর্তমানে গাছগুলো পরিপক্ক হওয়ায় ফুলের সমারোহ বেড়েছে।

কাপাসিয়া সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তামান্না সরকার ও মোহনা সরকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে। তাই সকালেই শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী থেকে ফুল দেখতে এসেছি। মনে হচ্ছে গাজীপুরের মধ্যেই যেন এক টুকরো জাপান।
অনেক দর্শনার্থী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে লিখছেন—“এটা কিন্তু জাপান নয়, আমাদের প্রাণের শহর গাজীপুর।” আবার কেউ লিখেছেন, “সৌন্দর্য উপভোগ করা আমাদের অধিকার, আর তা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ছবি তুলতে গিয়ে ফুল ছিঁড়বেন না বা গাছের ক্ষতি করবেন না।”
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অমিত হাসান বলেন, ফেসবুকে দেখে সময় বের করে সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এমন পরিবেশ মানুষের মনকে প্রশান্ত করে। দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিবেশ ও মানুষের মানসিকতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ তারিক হাসান বলেন, মহাসড়ক দৃষ্টিনন্দন করতে ২ থেকে ৫ মিটার প্রস্থের স্থানে তিন সারিতে এবং ১ থেকে ২ মিটার প্রস্থের স্থানে এক সারিতে কয়েক হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় এসব গাছে ফুল ফুটে যাত্রী ও পথচারীদের নজর কাড়ছে। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

