ভৈরব ও কুলিয়ারচর এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজি থেকে চাঁদা আদায় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। একই সঙ্গে ভৈরবকে মাদক ও ছিনতাইমুক্ত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিন দিনের কর্মসূচি নিয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা থেকে নিজ নির্বাচনী আসনে এসে ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছেন। আমি সবার সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেছি। বৃহত্তর স্বার্থে সর্বদলীয় অংশগ্রহণে আমরা এক। এখন আর আলোচনার সময় নেই, কাজের সময়। আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।”
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো আপস করা হবে না। “চিরতরে মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি নির্মূল করতে হবে। ভৈরব-কুলিয়ারচরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলাম।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “বাসযোগ্য ভৈরব গড়ে তুলতে চাই। আমার নির্বাচনী এলাকা সারাদেশে মডেল হিসেবে গড়ে তুলব।” তিনি জানান, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং হাজী আসমত কলেজে দ্রুত মাস্টার্স কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভৈরবে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান।
নির্মাণাধীন ট্রমা হাসপাতাল ও ১০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।
তিনি বলেন, “কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে রাজনীতিতে আসিনি। সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় নির্বাচিত হয়েছি। ভৈরবে মাদক, ছিনতাই ও অরাজকতা বেড়েছে—এসবের স্থায়ী সমাধান করা হবে।”
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি মানুষ, আমার ভুল হতে পারে। ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন। গণতান্ত্রিক সমালোচনা করবেন।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হকের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফায়জুল ইসলাম, র্যাব-১৪ সিপিসি-২ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মুজিবুর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাহবুব উল্লাহ মুছা প্রমুখ।
মতবিনিময় সভা শেষে দুপুর আড়াইটায় প্রতিমন্ত্রী ভৈরব বাজারের গোপাল জিউর মন্দির পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে বাজারের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং করেন এবং ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

