চট্টগ্রামের রাউজানে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কাছেই প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হয়েছেন যুবদলের এক কর্মী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনাস্থলটি পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে আনুমানিক ৫০০ মিটার দূরে।
নিহত ব্যক্তি মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০)। তিনি অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুল মজিদ পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, আবদুল মজিদ যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিয়ের ঘটক হিসেবেও কাজ করতেন।
নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, ইফতারের পর বাসা থেকে বের হয়ে তিনি অলিমিয়াহাট বাজারে একটি দোকানে বসেছিলেন। দোকান থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগেও তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানান তিনি।
নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তার ভাই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং রাউজান থেকে নির্বাচিত বিএনপি এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গত ১৭ বছরে আবদুল মজিদের ওপর দুবার হামলা হয়েছিল।
এ ঘটনায় উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বেলাল বলেন, হামলাকারীরা আবদুল মজিদকে গুলি করার পর তাকেও লক্ষ্য করে এগোতে চেয়েছিল। তিনি পালিয়ে রক্ষা পান। আহত অবস্থায় আবদুল মজিদকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক টিপলু কান্তি দে জানান, নিহতের শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি একই বাজার এলাকা থেকে অল্প দূরত্বে যুবদল নেতা মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮)-কেও একই কায়দায় মোটরসাইকেলযোগে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে ঘটনার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ১৫টি রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

