রাস্তা, ফুটপাত, রেল স্টেশনে বেড়েছে ভ্রাম্যমাণ বাস্তুহীন মানুষের সংখ্যা। এসব বাস্তুহীনদের প্রয়োজন একটি পোশাক। শীতকালে বাস্তুহীনরা খুঁজে বেড়ান এক টুকরো গরম কাপড়।
ভ্রাম্যমাণ সেসব বাস্তুহীন মানুষ রাস্তার ‘মানবতার দেয়াল’ এর দিকে তাকিয়ে থাকেন। কিন্তু মানবতার দেয়ালে এখন তারা পান না মানবতার সেই চিহ্নমাত্র। মানব সেবার উদ্দেশ্য নিয়ে পথচলা মানবতার দেয়াল এখন শুধুই স্মৃতি।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সরেজমিনে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থিত মানবতার দেয়ালে দেখা যায় লাগানো রয়েছে নানা রকম পোস্টার। বেশ কয়েক বছর আগে "আমাদের ভাঙ্গুড়া" নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ গড়ে তুলেছিলেন মানবতার দেয়ালটি।
দেয়ালে ‘আপনার অপ্রয়োজন অন্য কারো হতে পারে প্রয়োজন’ লিখে সেখানে অসহায়, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কাপড় ঝুলিয়ে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমানে মানবতার দেয়ালটি খালি পড়ে আছে।
বড়াল ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশনের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রথমদিকে মানবতার দেয়ালে উদ্যোক্তারা নিয়মিত কিছু জামা-কাপড় এই দেয়ালে রাখতেন। বেশ কিছুদিন ধরে এখানে অপ্রয়োজনীয় জামা-কাপড় রাখা বন্ধ রয়েছে। দেওয়ার চেয়ে নেওয়ার লোক অনেক বেশি।
তবে অনেকদিন ধরে এমনিতেই পড়ে আছে এ মানবতার দেয়ালটি। বর্তমানে হ্যাঙ্গারে কোনো জামা-কাপড় নেই। শীতের মধ্যে এখানে শীতবস্ত্র না পেয়ে অসহায় লোকগুলো ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।
ভাঙ্গুড়ায় প্রতিষ্ঠিত মানবতার দেয়ালের উদ্যোক্তারা জানান, বাস্তুহীনের বস্ত্রের অভাব মেটাতে কয়েক বছর পূর্বে উপজেলার বড়াল ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশনে মানবতার দেয়াল স্থাপন করা হয়। সেই সময়ে কিছু কাপড় রাখার পর থেকে ভালোই চলছিল। বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে মাবতার দেয়ালের দিকে খেয়াল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এখন আর ওখানে কেউ মানবিকতা দেখায় না। সমাজে দেওয়ার মতো মানসিকতার মানুষ খুবই কম। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মানবতার দেয়ালটি। সবাই নিজ নিজ মানবিক দিক থেকে এর দিকে নজর রাখলে মানবতার দেয়ালে মানবতা বেঁচে থাকবে যুগ যুগ ধরে।
এ ব্যাপারে চলনবিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি সাংবাদিক ও লেখক নুরুজ্জামান সবুজ মাষ্টার বলেন, "আমাদের ভাঙ্গুড়া" নামের ফেসবুক গ্রুপ সদস্যদের দ্বারা গড়ে উঠা মানবতার দেয়ালটি সত্যি অনন্য উদ্যোগ।
মানবতার দেয়াল শুধু সামগ্রী ভাগাভাগি নয়, এটি মানুষের মধ্যে বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা গড়ে তোলে। যখন রাষ্ট্র বা সংস্থার বাইরে মানুষ একে অপরকে সাহায্য করে, তখন সমাজে এক ধরনের নীরব পরিবর্তন ঘটে। আমাদের সবার উচিত এ উদ্যোগের পাশে থেকে শীতার্ত মানুষদের কষ্ট লাঘব করা।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

