রাজশাহীর তানোরে রোজার শুরুতেই আলু ছাড়া প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। আলু বাদে অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ টাকার ঊর্ধ্বে। রোজার শুরুতে এমন সবজির দামে হতাশ ক্রেতারা।
এছাড়া অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কারণেও সবজির দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। ফলে বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। অন্যদিকে আলুর দাম কম থাকায় চরম লোকসানে পড়ছেন চাষিরা।
আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পৌর এলাকার তালন্দ হাটে গিয়ে দেখা যায়, যে সব সবজি এক সপ্তাহ আগে ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হয়েছে, সেগুলো এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার সময় শসা ও লেবুর চাহিদা বেড়ে যায়। গত সপ্তাহে যে শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, তা এখন ১০০ টাকা কেজি। লেবুর হালি ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা।
হাটে বাবু নামের এক ক্রেতা বলেন, প্রতিটি সবজির দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। দুই হালি লেবুর দাম নেওয়া হয়েছে ১২০ টাকা, এক কেজি শসা ১০০ টাকা, ছোট সাইজের এক হালি কলা ৩০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা কেজি এবং টমেটো ৬০ টাকা কেজি। অথচ গত সপ্তাহেও এসব সবজি ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, হঠাৎ করে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। বিশেষ করে লেবু, শসা ও কলার সরবরাহ নেই বললেই চলে। সবজি বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এছাড়া খাজনা আদায়ের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কারণে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যায়। জমি থেকে হাটে আনার পর দফায় দফায় খাজনা দিতে হয়। একটি হাঁস বা মুরগি কিনলে রশিদ ছাড়াই ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই ১০ টাকা করে দিতে হয়। এভাবেই খাজনার নামে নীরব চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ক্রেতারা জানান, গত রমজানে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক ও নাগালের মধ্যে ছিল। কিন্তু এবার রোজার শুরুতেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বেড়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। উপজেলার অধিকাংশ মানুষের আয় কৃষিনির্ভর। গত মৌসুমে আলু চাষে লোকসান হওয়ায় অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।
তাদের দাবি, নতুন সরকার যদি বাজার মনিটরিং জোরদার না করে, তাহলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর বড় ধাক্কা আসবে। তাই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিত্যপণ্যের দাম হাতের নাগালে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তারা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

