নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ান, যা আইন ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিএনপি প্রার্থীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ানো হয়। সেসময় শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেয়।
দেওয়া স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল— “জালাল ভাইয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম”, “তারুণ্যের প্রথম ভোট”, “ধানের শীষের পক্ষে হোক”, “আমরা যদি ভোটার হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম” এবং “ভোট দিবো কিসে—ধানের শীষে।” অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এসব স্লোগানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।
এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রূপন দাস নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫-এর ১৫(খ) ধারার সরাসরি লঙ্ঘন, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি বিএনপি প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। নোটিশে বলা হয়, কেন এই অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না এবং কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রোববার) দুপুর ১২টায় বাজিতপুর চৌকি আদালতে অবস্থিত নিকলী সিভিল জজ আদালতের কার্যালয়ে স্বশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং নিকলী সিভিল জজ আদালতের বিচারক খাদিজা আক্তার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, চলমান নির্বাচনী কার্যক্রমে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একাধিকবার সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণায় সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও দলগুলোর প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

