নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভায় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আজাহার (৪৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে কাঞ্চন পৌরসভার নরাবো এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আজাহার নরাবো এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি কাঞ্চন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবারের একটি দলীয় কর্মসূচি সফল করতে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাঞ্চন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে কর্মসূচির তালিকায় কার নাম আগে, কার নাম পরে থাকবে এ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সবুজের সঙ্গে যুবদল কর্মী রাজিবের তর্ক শুরু হয়।
কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুবদল কর্মী রাজিবের সহযোগী হাসানসহ কয়েকজন একত্র হয়ে সবুজ, আজাহার, রিপন ও এমরাতের ওপর হামলা চালান। এ সময় আজাহারকে ঘুষি মারলে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আহত অবস্থায় আজাহারকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রাতেই কাঞ্চন পৌর বিএনপির নেতারা নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং এর সুষ্ঠু বিচার না হলে এলাকায় ক্ষোভ আরও বাড়বে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন,
ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে। নিহত আজাহারের পরিবারের দাবি, দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

