ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২১ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরীক্ষাকেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ভোলায় একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র সক্রিয়ভাবে নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করিয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চাকরিপ্রার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে আসছিল। নিয়োগ পরীক্ষা এলেই এই চক্র প্রশ্নফাঁস, ফলাফল প্রভাবিত করা কিংবা বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার নামে লাখ লাখ টাকার লেনদেন করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা ও অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে তা বারবার চাপা পড়ে যাচ্ছিল। সচেতন মহলের দাবি, আটক ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের হিসাব যাচাই করা হলে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সোহান সরকার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সময়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না করা গেলে এ ধরনের নিয়োগ-বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। অন্যথায় মেধাবীরা বঞ্চিত হবে এবং সরকারি চাকরি ব্যবস্থা ক্রমেই অর্থ ও তদবিরনির্ভর হয়ে পড়বে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

