নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই ভারত–বাংলাদেশ স্থলপথে যাতায়াতকারী পাসপোর্ট যাত্রীদের খরচ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর পেট্রাপোল দিয়ে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৫০০ রুপি ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ’ (পিইউসি) আদায় শুরু হয়েছে।
ভারত সরকারের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এলপিএআই)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) পেট্রাপোল বন্দরের ম্যানেজার কামলেশ সাইনি স্বাক্ষরিত এক অফিস মেমোর মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানানো হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী জিএসটি-সহ নির্ধারিত যাত্রী পরিষেবা ফি হিসেবে ভারতীয় ও বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে ২০০ রুপি এবং তৃতীয় দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে ৫০০ রুপি বা ৫ মার্কিন ডলার আদায় করা হচ্ছে।
তবে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়ে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ রুপি। এছাড়া ভারত সরকারের তালিকাভুক্ত কিছু নির্দিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাকে এই ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিষেবার মান আরও উন্নত ও গতিশীল করতেই এই চার্জ চালু করা হয়েছে।
একই সঙ্গে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থা। যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো ‘ভিনিময়’ ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানার মাধ্যমে লগইন করে স্লট বুক করতে পারবেন। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড প্লে-স্টোর ও আইওএস স্টোর—উভয় প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাবে। পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনের জন্য কিউআর কোড স্ক্যান করার সুবিধাও রাখা হয়েছে।
তবে নতুন এই সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সামনে ভারতগামী যাত্রী আব্দুর রহিমসহ একাধিক যাত্রী জানান, নতুন বছরের প্রথম দিনেই পেট্রাপোল স্থলবন্দরে এই চার্জ চালু হওয়ায় পাসপোর্ট যাত্রীদের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
তারা জানান, এর আগে বাংলাদেশ সরকার দফায় দফায় ট্রাভেল ট্যাক্স বাড়িয়ে সর্বশেষ যাত্রীপ্রতি এক হাজার টাকা এবং পোর্ট ট্যাক্স ৫৬ টাকা নির্ধারণ করে। তার ওপর ভারত সরকার নতুন করে ২০০ রুপি পোর্ট ট্যাক্স আরোপ করায় বিশেষ করে রোগাক্রান্ত, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এটি বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাসপোর্ট যাত্রী রোমানা বলেন,
“নতুন বছরের শুরুতে আমরা আশা করেছিলাম ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে ভিসা জটিলতা নিরসন হবে এবং ট্যুরিস্ট ভিসাসহ সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। কিন্তু তার বদলে নতুন করে পাসপোর্ট যাত্রীদের ওপর ২০০ রুপি ফি আরোপ করায় হতাশা বেড়েছে।”
১ জানুয়ারি থেকে এই চার্জ কার্যকর হওয়ায় ভারত–বাংলাদেশ স্থলপথে যাতায়াতকারী সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকেই এখন অতিরিক্ত এই খরচ বহন করতে হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

