২০২৪ সালের গণআন্দোলনে প্রথমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে জীবনবাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলেন জান্নাত আরা রুমী (৩০)। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা সদর নজিপুর পৌর এলাকায় স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রথম সারির মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে ‘জুলাই কন্যা’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। পরে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যুক্ত হন।
দেশপ্রেমের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন ছিল জান্নাতের। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোডের একটি ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে জান্নাত আরা রুমীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ‘রহস্যজনক মৃত্যু’র খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়লে নওগাঁ জেলা তথা জান্নাতের জন্মস্থান পত্নীতলা উপজেলায় শোকের মাতম নেমে আসে।
জানা যায়, জান্নাত আরা রুমী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি থানার সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।
তিনি নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলা সদর নজিপুর পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবা জাকির হোসেন এবং মা নুরজাহান বেগম।
জান্নাতের সহপাঠীরা জানান, তিনি ২০১২ সালে এসএসসি এবং ২০১৪ সালে নজিপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নার্সিং ডিপ্লোমায় ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি পুত্রসন্তানের মা হন। সন্তানের বয়স বর্তমানে প্রায় চার বছর। প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি স্বামীকে তালাক দেন। এরপর এনসিপিতে যোগ দিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এর আগে তিনি নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পত্নীতলা উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন নেতা মারুফ মোস্তফা, আন্দোলনের অন্যতম সদস্য রুহুল আমীন, মাসুদ রানা ও সুমাইয়া জান্নাতসহ অনেকে জানান,
“জান্নাত আরা আর নেই—ভাবতেই অবাক লাগে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের পতনের দাবিতে প্রথম সারির মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জান্নাত রুমী। তাঁর এমন অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত।”
তাঁরা আরও বলেন, “আমরা জান্নাতের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের জোর দাবি জানাই। যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ত্যাগী তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বদানকারী একজন সাহসী নেত্রীকে হারালাম।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

