ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বৃদ্ধ ফকিরকে ধরে জোর করে চুল-দাড়ি কেটে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী, সত্তরোর্ধ্ব হালিম উদ্দিন আকন্দের ছেলে মো. শহীদ আকন্দ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মামলাটি দায়ের করেছেন বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, হালিম আকন্দের ছেলে শহীদ আকন্দ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ঘটনার তারিখ হিসেবে দেখানো হয়েছে চলতি বছরের ৫ জুন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা শনিবার দুপুরে থানায় এসে মামলার আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
কোরবানির ঈদের আগে উপজেলা কাশিগঞ্জ বাজারে ফকির হালিম উদ্দিনকে কয়েকজন ধরে জোর করে চুল-দাড়ি কেটে দেন। তিনি নিজের শক্তি দিয়ে ওই লোকগুলোর কাছ থেকে ছুটার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত অসহায়ের মতো বলছিলেন, ‘আল্লাহ, তুই দেহিস।’
এরপর থেকে হালিম উদ্দিন নিজেকে প্রায় ‘ঘরবন্দি’ করে রাখেন। সম্প্রতি এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে সারাদেশে আলোচনার জন্ম দেয়।
ভুক্তভোগী হালিম উদ্দিন জানান, চা-নাশতা খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করা হয়েছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় কয়েকজন মিলে তাকে বাইরে এনে এই কাজ করেন। তিনি অত্যন্ত মর্মাহত এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন। এছাড়া এই ঘটনার পর তিনি হাত-পা ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ব্যথা ও নানা জটিলতায় ভুগছেন।
দেশের শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এ জোর করে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখেছে। আসক এটি ব্যক্তির শারীরিক অখণ্ডতা ও মৌলিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রকাশ্যে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের প্রতি এমন অমানবিক আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও বেআইনি। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। আসামিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সভ্য সমাজে এ ধরনের জোর-জুলুম মেনে নেয়া যায় না। এ ঘটনায় দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

