ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

দুই সন্তানসহ নদীতে ঝাঁপ মায়ের, এক সন্তানের লাশ উদ্ধার


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী
০৫:২৬ পিএম, ২৩ জুন, ২০২২
দুই সন্তানসহ নদীতে ঝাঁপ মায়ের, এক সন্তানের লাশ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর পলাশে শীতলক্ষ্যা নদীর নিজাম উদ্দিন খেয়াঘাট থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত শিশুর লাশের পরিচয় মিলেছে। উদ্ধার হওয়া লাশটি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বিবাদিয়া গ্রামের আরিফা আক্তারের সাত বছর বয়সী মেয়ে মুর্শিদা আক্তারের। 

বুধবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিশুর লাশ উদ্ধার করে মাধবদীর বঙ্গারচর নৌ পুলিশ।

মাধবদীর বঙ্গারচর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) তরিকুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে পলাশে শীতলক্ষ্যা নদীর নিজাম উদ্দিন খেয়াঘাটে এক অজ্ঞাত শিশুর লাশ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খরব দেয়। পরে নৌ-পুলিশ খবর পেয়ে ওই খেয়াঘাট থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করে তার পরিচয় শনাক্ত করে। উদ্ধার হওয়া শিশু মুর্শিদা আক্তারের লাশ তার মামা হেদায়েত উল্লাহর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

স্বজনরা জানান, রবিবার (১৯ জুন) দুপুরে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ায় সিংহশ্রী গ্রামের বরমা সেতু এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে আরিফা আক্তার নামে এক নারী তার দুই শিশু মেয়ে তাহমিদা আক্তার (৯) ও মুর্শিদা আক্তার (৭)-কে নিয়ে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় জেলেরা তাহমিদা আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও মা আরিফা আক্তার ও মেয়ে মুর্শিদা আক্তারকে উদ্ধার করতে পারেনি।

খবর পেয়ে দুই দিন ধরে কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ চালিয়ে তাদের কোন সন্ধান পায়নি। তিন দিন পর বুধবার সন্ধায় পলাশের শীতলক্ষ্যা নদীর নিজাম উদ্দিন খেয়াঘাট এলাকায় শিশু মোর্শেদা আক্তারের লাশ ভেসে ওঠে। নৌ-পুলিশ এ লাশ উদ্ধার করে। 

আরিফা আক্তারের ভাই এমারত হোসেন জানান, দশ থেকে বারো বছর আব্দুল মালেকের সঙ্গে তার বোন আরিফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুই মেয়ের জন্ম হয়। এর কিছুদিন পরে স্বামী আব্দুল মালেক মারা যান। এরপর থেকেই আরিফা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েন এবং তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কিছু লক্ষণ দেখা যায়।

উদ্ধার হওয়া শিশু তাহমিদা জানান, রবিবার সকালে মা জুতা, সিঙ্গারা ও জামা-কাপড় কিনে দেয়ার কথা বলে তাদের নিয়ে বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে তাদের নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এসে দু’জনকে দুই হাতে ধরে নদীতে ঝাঁপ দেন। ঝাঁপ দেয়ার পর মায়ের হাত ফসকে নদীতে থাকা বাঁশের মাচা ধরে কান্নাকাটি করতে থাকে তাহমিদা। এ সময় মাছ ধরতে আসা জেলেরা তাকে উদ্ধার করে।

 

 

 

একুশে সংবাদ/সা.হো/এস.আই