শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য খুঁজছেন অনেকেই। দূরবর্তী পাহাড় কিংবা সমুদ্রসৈকতে না গিয়েও মাত্র কয়েক ঘণ্টার যাত্রায় পদ্মা নদীর বুকে হাউসবোট ভ্রমণ হতে পারে আকর্ষণীয় একটি বিকল্প। নদীর ঢেউ, বিস্তৃত আকাশ, চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পদ্মা সেতুর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং সূর্যাস্তের অপার সৌন্দর্য মিলিয়ে এটি দিনব্যাপী ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
জনপ্রিয়তা বাড়ছে পদ্মার হাউসবোট পর্যটনে
দেশের পর্যটন খাতে হাউসবোট নতুন নয়। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে দীর্ঘদিন ধরেই হাউসবোট ভ্রমণ পর্যটকদের কাছে সমাদৃত। বর্ষা মৌসুম শেষে অনেক হাউসবোট পদ্মা নদীতে চলে আসে এবং শীত থেকে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এখানে পর্যটনসেবা দিয়ে থাকে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চার বছর আগে যেখানে হাতে গোনা কয়েকটি হাউসবোট ছিল, বর্তমানে পদ্মা নদীতে প্রায় ২৫টি হাউসবোট নিয়মিত ভ্রমণসেবা পরিচালনা করছে। এসব নৌযানের কিছুতে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, আধুনিক ডাইনিং সুবিধা এবং খোলা ডেক।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং বাজার, বেজগাঁও, পুরোনো মাওয়া ঘাট (শিমুলিয়া) এবং দোহারের নারিশা বাজার ঘাট থেকে হাউসবোটগুলো যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী প্যাকেজ পরিচালনা করছে এবং যাত্রীদের যাত্রার ঘাটেই ফিরিয়ে আনা হয়।
দিনভর বিনোদন ও আনন্দ আয়োজন
হাউসবোট ভ্রমণ সাধারণত সকালের নাশতা দিয়ে শুরু হয়। এরপর মধ্যাহ্নভোজ, বিকেলের নাশতা এবং অনেক ক্ষেত্রে সন্ধ্যায় বারবিকিউ আয়োজনও থাকে। বিশেষ উপলক্ষে মেন্যুতে যুক্ত হয় বাড়তি খাবার এবং উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির নানা আয়োজন।
পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে নৌভ্রমণ। পাশাপাশি নদীর চরে নোঙর করে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমেরও আয়োজন করা হয়। ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, হাঁড়িভাঙা, দৌড় প্রতিযোগিতা, বালিশ নিক্ষেপসহ নানা গ্রামীণ খেলাধুলায় অংশ নেন ভ্রমণকারীরা।

এ ছাড়া নদীতে সাঁতার কাটা, পদ্মার পানিতে সময় কাটানো এবং জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগও থাকে।
খরচ কত?
প্যাকেজভেদে হাউসবোট ভ্রমণের খরচ নির্ধারিত হয়। কেবিনের ধরন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সংযুক্ত বাথরুম, ব্যক্তিগত বারান্দা বা অন্যান্য সুবিধার ওপর ভিত্তি করে জনপ্রতি খরচ সাধারণত ২ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

পরিবার বা করপোরেট গ্রুপের জন্য বিশেষ আয়োজন ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে যাতায়াত সুবিধাও দিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হতে পারে।
ভ্রমণের আগে যা জানা জরুরি
ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট হাউসবোটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ দেখে আগের ট্যুরের ছবি, ভিডিও এবং গ্রাহকদের মতামত যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া বুকিংয়ের আগে প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত সুবিধা, শিশুদের জন্য নীতিমালা, লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গেলে পার্কিং সুবিধা আছে কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকৃতি, নদী এবং স্বল্প সময়ের অবকাশ একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে পদ্মার বুকে হাউসবোট ভ্রমণ হতে পারে ঈদ-পরবর্তী ছুটির একটি অনন্য অভিজ্ঞতা।
পদ্মায় চলাচল করছে এমন সাতটি হাউসবোটের বুকিং নম্বর ও ফেসবুক লিংক:
গ্রিন হ্যাভেন
মোবাইল: 01719-591613
ফেসবুক: fb.com/greenhaven0
ওয়াটার ইন
মোবাইল: 01894-442426
ফেসবুক: tinyurl.com/yfkjujx4
দ্য হাওর সেইল
মোবাইল: 01713-388492
ফেসবুক: fb.com/Thehaorsail
দহিম
মোবাইল: 01674-948668
ফেসবুক: fb.com/doheem
ফ্যালকন
মোবাইল: 01897–984008
ফেসবুক: fb.com/falconhouseboat
হৈমন্তী
মোবাইল: 01798–254621
ফেসবুক: tinyurl.com/2txbt7jy
কাগজের নৌকা
মোবাইল: 01823–800804
ফেসবুক: fb.com/kagojernoukaboat
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

