পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে ঘিরে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে নেমেছে দর্শনার্থীদের ঢল। বিশেষ করে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশ, স্বচ্ছ পানির পাথুরে নদী এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ। পাহাড়, পাথর ও নীলাভ জলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন সব বয়সী দর্শনার্থীরা।
শুক্রবার (২৯ মে) সরেজমিনে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই সেখানে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে অনেকে স্বচ্ছ পানিতে গোসল করছেন, কেউ ছবি ও সেলফি তুলছেন, আবার কেউ ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুরো পর্যটনকেন্দ্রজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
কুমিল্লা থেকে পরিবারসহ বেড়াতে আসা কলেজছাত্রী অদিতি বলেন, “সাদাপাথর অসম্ভব সুন্দর। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। তবে পর্যটকদের সুবিধার জন্য আরও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।”
এদিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পর্যটক আসায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী, নৌকার মাঝি ও ফটোগ্রাফাররা। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের ভিড়ে তাদের ব্যবসায় নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
শুধু ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর নয়, ঈদের ছুটিতে সিলেট বিভাগের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড, শ্রীমঙ্গল, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এবং সিলেটের বিভিন্ন চা-বাগান ও বিনোদন পার্কে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যথাযথ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সিলেটের এসব পর্যটনকেন্দ্র আন্তর্জাতিক মানের গন্তব্য হিসেবে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

