অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বাঁধ ভাঙার ঘটনায় দেশের হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় প্রায় অর্ধলক্ষ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানিয়েছে, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরগুলোতে প্রায় ৪৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমির ধান ডুবে রয়েছে। এসব এলাকায় গড়ে ১০ শতাংশের বেশি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ বিবেচনায় প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টনের বেশি চাল উৎপাদন কম হতে পারে। চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলে ৪ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জে, যেখানে ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান ডুবে গেছে। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকায় অনেক ক্ষেতের পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে শ্রমিক সংকট ও জমিতে পানি জমে থাকায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতেও দ্রুত ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

এদিকে, শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন কৃষকেরা। আগে যেখানে দৈনিক ৫০০-৬০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন অনেক জায়গায় তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। পাশাপাশি কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে যারা কোনোভাবে ধান কাটতে পেরেছেন, তারাও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন মাস পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতির তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বোরো মৌসুমে উৎপাদন কমে গেলে তা দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

