কুয়েতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী বাংলাদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে কয়েক লাখ বাংলাদেশি বসবাস করলেও নিজস্ব কারিকুলামে পড়াশোনার সুযোগ না থাকায় অভিভাবকরা গভীর চিন্তায় পড়েছেন।
বর্তমানে কুয়েতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় কোনো স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। অতীতে কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাস পরিচালিত একটি স্কুল থাকলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় তার কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। এর ফলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থমকে গেছে।
বিজাতীয় কারিকুলামে বাধ্য হওয়ায় নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। নিজস্ব স্কুল না থাকায় বাংলাদেশি অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভারতীয়, পাকিস্তানি অথবা স্থানীয় কুয়েতি স্কুলে ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কোমলমতি শিশুরা বাংলা ভাষা, বাংলাদেশি সংস্কৃতি এবং জাতীয় ইতিহাস জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া এসব বিদ্যালয়ে টিউশন ফি বেশি হওয়ায় সীমিত আয়ের প্রবাসীরা কষ্টে পড়ছেন।
ভর্তি জট ও আসন সংকট থাকায় কুয়েতের অন্যান্য বিদেশি স্কুলগুলোতে আসন সীমিত। ফলে প্রতি বছর অনেক বাংলাদেশি শিশু স্কুলে ভর্তি হতে না পেরে ঘরে বসে থাকছে। যারা অন্য দেশের কারিকুলামে পড়ছে, তারা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে গেলে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে খাপ খাওয়াতে চরম সংকটে পড়ছে, বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে।
কুয়েতে প্রবাসী এক অভিভাবক বলেন, “আমরা এখানে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠাই। কিন্তু আমাদের সন্তানরা বাংলা পড়তে পারছে না, দেশের কথা শিখতে পারছে না। একটি নিজস্ব স্কুল থাকলে আমাদের চিন্তা কম হতো। এখন চড়া খরচের অন্য দেশের স্কুলে পড়াতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।”
প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে একটি স্থায়ী বাংলাদেশি স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন। যদিও বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বাস্তব কোনো অগ্রগতি এখনও দেখা যায়নি। কুয়েতের আইন অনুযায়ী বিদেশি স্কুল পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ও স্থানীয় স্পন্সরের প্রয়োজন হয়, যা সমাধানে সরকারি হস্তক্ষেপ আবশ্যক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে কুয়েতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিরা নিজস্ব সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম থেকে বিচ্যুত হবে। প্রবাসীরা মনে করছেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বা কুয়েতে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে একটি স্থায়ী ভবন বরাদ্দ দিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। এছাড়া জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) অনুমোদিত সিলেবাস চালু করলে ছাত্রছাত্রীরা দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারবে।
কুয়েতে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আ,হ জুবেদ বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করা সময়ের দাবি। শিক্ষা অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া মানে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেওয়া। আমরা কমিউনিটিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছি এবং আশা করি সবাই এগিয়ে এলে আমাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বেশি সময় লাগবে না।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

