পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
সোমবার (২৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির নেতৃদ্বয় এ শুভেচ্ছা জানান।
প্রদত্ত এক ঈদ শুভেচ্ছা বার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের সকলের জীবনকে আরও উদ্ভাসিত করুক—মহান আল্লাহর কাছে আমরা এই কামনা করছি। আল্লাহর নির্দেশ পালনে নবী ইব্রাহিম (আ.) নিজের প্রিয় সন্তানকে কুরবানি করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। অন্যদিকে তাঁর প্রিয় সন্তান নবী ইসমাঈল (আ.)-ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিজের জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সেস্থলে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানির ব্যবস্থা করেন। তাঁদের এই চরম আনুগত্য ও আত্মত্যাগের ঘটনাকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরবর্তীদের জন্য স্মরণীয় ও অনুকরণীয় করে রাখার ব্যবস্থা হচ্ছে পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহায় পশু কুরবানি।
পশু জবাই করার পাশাপাশি আমাদের মনের পশুত্বকেও কুরবানি দিয়ে ইসমাঈলি চেতনায় নিজেদের শাণিত করতে হবে। পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের মহান আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ এবং তাকওয়াভিত্তিক একটি সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়। ঈদুল আজহা সমাজে সমতা, দানশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়।
খেলাফত মজলিসের নেতৃদ্বয় আরও বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনের নিষ্পেষণের পর জনগণ এবার দ্বিতীয় বারের মতো নির্ভীক চিত্তে ঈদুল আজহার আনন্দ উদযাপন করতে যাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট অপশক্তির নির্মম নির্যাতনে হতাহতদের পরিবারগুলোতেও ঈদের নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক—এ কামনা করছি। শহীদ পরিবারগুলোতেও ঈদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। দরিদ্র-অসহায় মানুষও যাতে ঈদের দিন কুরবানির গোশত উপভোগ করতে পারে, সেজন্য সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসতে হবে। কুরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরকারকে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নারী-শিশুর নিরাপত্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। সড়ক ও ঘরবাড়ির নিরাপত্তায় প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে জাতিসংঘ ও মুসলিম বিশ্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মিয়ানমারের উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নাগরিক অধিকার দিয়ে আরাকানে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার ঈদুল আজহায় পশু কুরবানিতে বাধা দিচ্ছে। আমরা ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সকল নির্যাতিত মানুষের মুক্তি কামনা করছি।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

