নতুন অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। এক্ষেত্রে কার্য ক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার ফেরতও চেয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ ও হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, আলমগীর সিকদার লোটন, সাহিদুর রহমান টেপা,এস.এম. ফয়সল চিশতীমীরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
জিএম কাদের বলেন, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য এ মুহূর্তে জরুরি প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। আওয়ামী লীগের মত একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের সমর্থক বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার বহাল না করলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে।’
তিনি বলেন, এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর (আওয়ামী লীগ সমর্থক) সামাজিক ও অর্থনৈতিক অর্থাৎ তাদের ব্যবসা বাণিজ্যের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত না করা হয় সেক্ষেত্রে এই জনগোষ্ঠীর অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন বিনিয়োগ। আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের রাজনৈতিক অধিকার আইনগতভাবে হরণ করা হলে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা জেল, জুলুম এবং নির্যাতন নিপীড়নের মাধ্যমে দমন করে রাখা হলে এই বিরাট জনগোষ্ঠী সব সময় তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করবে। ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হবার আশঙ্কা থাকবে।
এ সময় প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর সুফল পেতে সময় লাগবে। ফলে আগামী অর্থবছরেই বড় ধরনের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি পাওয়া সহজ হবে না।
তিনি বলেন, দেশের আর্থ সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের হাতে কর দেওয়ার মত যথেষ্ট অর্থ আছে বলে মনে করি না।
তিনি বলেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। গণমাধ্যমে ৮ জুন ২০২৬ টিআইবির একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তাতে খুনের সংখ্যা-৬০৫, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩ হাজার৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচলে ভয় পায় কারণ যে কোন স্থানে যে কোন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা বিরাজমান। এমন কি মৃত্যুর মত ঘটনাও ঘটতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে সাধারণ জনগণ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর আস্থা রাখতে পারছে না। ফলে ব্যবসা বাণিজ্যে স্বাভাবিকতা থাকছে না।
জিএম কাদের বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উদ্বেগ জনক। এরই মাঝে ৪০০টির মত মিল কারখানা বন্ধ হয়েছে। ফলে বেকারত্ব বাড়ছে উল্লেখ যোগ্য হারে। এর মধ্যে বেশিরভাগই গার্মেন্টস্, টেক্সটাইল, স্পিনিং মিলের যার অধিকাংশই শতভাগ রপ্তানিমুখি প্রতিষ্ঠান।
এছাড়াও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কারখানা বন্ধের হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায়। রফতানি আয় নিম্নমুখী। প্রবাসী আয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিম্নগামী। নতুন মিল কারখানা স্থাপন শূন্যের কোঠায়। মূল্যস্ফীতি বেশী এবং এটা ঊর্ধ্বগামী।
তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতির ফলে দরিদ্রের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। এরই মাঝে আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশ, আই এম এফ বলছে ৪.৭ শতাংশ, এডিবি বলছে ৪.০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ধারনা করি, বর্তমান সরকার আর একটি বিষয় তেমনভাবে বিবেচনায় আনেননি। ইরান যুদ্ধ পরিস্তিতির ফলে পৃথীবিব্যাপি জ্বালানী তেল, জ্বালানী গ্যাস ও সারের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। তাছাড়া সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থ দিয়েও অনেক সময় সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

