রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কনভেনশনের সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আমরা গত ষোলো বছর লড়াই করেছি, বলতে গেলে স্বাধীনতার পর থেকে ৫৫ বছর লড়াই করেছি, যে আকাঙ্ক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে মানুষ জীবন দিয়েছে, যে জন্য চব্বিশেও জীবন দিয়েছে—কিন্তু আমরা বারবারই নানা শক্তির বাধায় হোঁচট খাচ্ছি। যে গণতন্ত্রের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, আমরা দেখলাম মুক্তিযুদ্ধের পরপরই সেই গণতন্ত্রের কবর রচনা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছিলেন। গত ষোলো বছরেও একই জিনিস দেখেছি। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু আমরা দেখেছি ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর তারা এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের সঙ্গে আবারও প্রতারণা করছে।’
গুটিকয়েক সংস্কার নিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঐকমত্য হয়েছিল উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের একটি উচ্চকক্ষ প্রয়োজন, যা সংবিধানকে চেক দেবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যাতে কোনো সরকার সংবিধানকে ইচ্ছেমতো কাটাছেঁড়া করতে না পারে। উচ্চকক্ষের কাজই হবে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স তৈরি করা। আমরা বলেছি, এটি ভোটের অনুপাতে গঠন করতে হবে। কারণ আসন অনুপাতে করলে উচ্চকক্ষের কোনো লাভ নেই। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে দলীয় নিয়োগ না হয়, নির্বাচন কমিশন যেন নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ দেওয়া যায়, পিএসসি ও দুদক যেন নিরপেক্ষ হয়—এ বিষয়ে আমরা দাবি জানিয়েছিলাম, ঐকমত্যও হয়েছিল। বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের কথাও বলেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘এই কয়েকটি সংস্কার হলেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে না, তবে এগুলো ধাপে ধাপে এগোনোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বলেছিলাম, এসব সংস্কার করতে হবে সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে। শুধু সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিএনপি যে সংস্কার আনুক, তা টেকসই হবে না। আজ তারা ক্ষমতায় আছে, কিন্তু চিরকাল কেউ ক্ষমতায় থাকে না। জিয়াউর রহমান ভুল করেছিলেন। বিএনপি যদি তাদের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চায়, সংস্কার পরিষদ ছাড়া করলে তা কার্যকর হবে না। কারণ এই সংশোধনী যেকোনো সময় বাতিল করা সম্ভব। ৭২-এর সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও তাদের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার পথ উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে—বিএনপি হয় জেনে, না জেনে এটি করছে। একটি টেকসই যাত্রার জন্য সংস্কার পরিষদ প্রয়োজন।’
নোট অব ডিসেন্টের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘পার্লামেন্টে অনেক সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা তাতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। এতে সিদ্ধান্ত আটকে যায়নি, বরং ঐতিহাসিক নথি হিসেবে তা থেকে গেছে। কিন্তু নোট অব ডিসেন্টের আলোকে সংস্কার হলে ঐকমত্য থাকে না, জুলাই সনদের প্রাসঙ্গিকতাও থাকে না। যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে হোঁচট খাই, তাহলে মানুষকে বারবার রাস্তায় নামতে হয়। আমরা তা চাই না। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সংস্কার করে এগিয়ে যেতে চাই। যদি তা না হয়, যারা সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে তারা বসে থাকবে না। প্রথম অধিবেশনকে সরকার ব্যর্থ করেছে। এটি অব্যাহত থাকলে লড়াই রাজপথে গড়াবে। আমরা আশা করি, তার আগেই সরকার নিজেদের ভুল বুঝে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন করবে।’
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের সঞ্চালনায় সমাপনী অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

