AB Bank
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ, ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

নবান্ন উৎসবের ২৫ বছর


Ekushey Sangbad
সঙ্গীতা ইমাম
০৮:১৭ পিএম, ১৬ নভেম্বর, ২০২৩
নবান্ন উৎসবের ২৫ বছর

অগ্রহায়ণে পাকা ধানের ম-ম সুবাস চৌদিক আমোদিত করে তোলে। ধান কেটে আঁটি করে মাথায় বয়ে বাড়ির পথে যখন হাঁটে কৃষক, তখন তার পদক্ষেপে থাকে সাফল্যের দৃঢ়তা। ধানের আঁটিতে ভরে যায় উঠোন। আনন্দ গান গেয়ে চাতালে পায়ে নেড়ে ধান শুকাতে শুকাতে ধানের অপূর্ব আলপনা তৈরি করা; ঢেঁকিতে পাড় দেওয়া নৃত্যভঙ্গিমা যে কোনো নৃত্যশিল্পীকে অবাক করে।

এ দৃশ্যের অনেকটাই এখন আর গ্রামে দেখা যায় না। ধান পাকলে মাড়াইয়ের যান্ত্রিক কল চলে যায় মাঠে। বিকট শব্দে সমস্ত ধান মাড়াই হয়ে যায় সেখানেই। আজকাল বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ধান চলে যায় রাইস মিলে। সেখানে শুকানোর প্রক্রিয়া শেষে মেশিনেই চাল বের করা হয়। বস্তাবন্দি চাল বিক্রি হয়ে যায় মিলেই, আর খোরাকের বস্তাবন্দি চাল যায় বাড়িতে।

শহরের কোনো কোনো ঘরে পিঠা-পুলি একেবারেই হয় না, তা নয়। তবে খুব কমই এ দৃশ্য দেখা যায়। শহরের পরিবারগুলোতে পিঠা-পুলি অনলাইন বা দোকান থেকেই বেশি আসে। তবে কভিডকালে অনেকেই নিজের রান্নাঘরে পিঠা-পুলি তৈরি করেছে। নতুন গুড় উঠলে পায়েস বা মিষ্টান্ন তৈরি হয় অনেক ঘরেই।

হেমন্ত ঋতু তার দানের ডালি নিয়ে হাজির হলে মনে আনন্দ তো আসেই। সেই আনন্দ কংক্রিটের রাজ্যে কিছুটা প্রবাহিত করতে শহরের সাজানো মঞ্চে নবান্ন উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। ১৪০৬ বঙ্গাব্দে জাতীয় নবান্ন উৎসব উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে ঢাকা শহরের বুকে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম নবান্ন উৎসব। দেশ ও সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্বশীল কিছু প্রাজ্ঞজন শুরু করেন এ উৎসব।

১৪০৬ বঙ্গাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রাঙ্গণ মুখর হয় যন্ত্রসংগীতের মূর্ছনায়। পরপর চলতে থাকে সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনের উপস্থাপন। ধানি রঙে সেজে উৎসবস্থলকে বর্ণিল করে তোলে তিলোত্তমা নগরীর সংস্কৃতিবান জনগণ। সেই থেকে বহু নমস্যজন এ উৎসব উদ্বোধন করেছেন। যাদের নাম বলতে চাই– সর্বজনশ্রদ্ধেয় কবি শামসুর রাহমান, কলিম শরাফী, সৈয়দ হাসান ইমাম, শিল্পী ইমদাদ হোসেন, মাহবুবুল আলম চৌধুরী, হেনা দাস, ফেরদৌসী মজুমদার, ফয়েজ আহ্মদ, রামেন্দু মজুমদার, কামাল লোহানী প্রমুখ। জ্ঞানীজনের উপস্থিতি ও বক্তব্য আয়োজক ও দর্শক-শ্রোতা উভয়কেই ঋদ্ধ করেছে, যা আজও চলমান।

আর্থিক বা অবকাঠামোগত নানা সমস্যা উতরে যেতে যেতে কেটে গেল ২৪টি বছর। আজ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতার গর্বে গর্বিত জাতীয় নবান্ন উৎসব উদযাপন পর্ষদ। এই গর্ব এ পর্ষদের একার নয়। যে দর্শক একটিবারের জন্যও এ উৎসবে শামিল হয়ে আনন্দ পেয়েছেন, তিনিও এ গৌরবের অংশ।

যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একটি টাকা হলেও সহায়তা করেছেন; যে কর্তৃপক্ষ উৎসব আয়োজনের স্থান বরাদ্দ দিয়ে সহায়তা করেছে; নিরাপত্তা বাহিনীর যে সদস্য সারাদিন অক্লান্ত উপস্থিতিতে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন; যে শিল্পীরা একটিবারের জন্যও তাঁর শিল্পমাধ্যমকে ভালোবেসে ও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি দায়বোধের কারণে এ আয়োজনকে নিজের মনে করে পরিবেশনায় সর্বাঙ্গীণ পূর্ণতা দিয়েছেন– সবাইকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। নবান্ন শুধু উৎসবে সীমাবদ্ধ না থেকে সক্রিয় থাকবে আমাদের কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে। আমাদের ক্ষুদ্র অংশেও যদি সত্যিকার অর্থে সুফলা হয় ফসলের মাঠ; খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় বাংলাদেশ, তবেই এ আয়োজন সার্থক। 
শুভ নবান্ন।


একুশে সংবাদ/স.ল.প্র/জাহা 

Link copied!