দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১৩ জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবলে পড়তে পারে।
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি পয়েন্টে সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট জেলার চরাঞ্চল ও নিম্নভূমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার থেকে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদের মতে, এ বৃষ্টিপাত কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে, যা নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
রোববার দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নীলফামারীর ডিমলায় ৬৩ মিলিমিটার, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ৭৫ মিলিমিটার, টেকনাফে ৬২ মিলিমিটার, কুমিল্লায় ৫৫ মিলিমিটার এবং খুলনা ও সন্দ্বীপে ৪৭ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

