টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে প্রায় ৩০ লাখ হাঁস-মুরগি ও প্রায় চার লাখ গবাদিপশু আক্রান্ত হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, খামার, পশুখাদ্য ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটিরও বেশি।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার ৪১টি উপজেলা এবং ১৮৩টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ও ১০৮টি ইউনিয়ন, কক্সবাজারের আটটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন, বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন, রাঙামাটির দুটি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে।
বন্যায় আক্রান্ত গবাদিপশুর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৩টি গরু, চার হাজার ৬২০টি মহিষ, ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪২টি ছাগল এবং প্রায় ৩০ হাজার ভেড়া। পাশাপাশি ২৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৫৭টি মুরগি ও ৫৯ হাজার ৪৭৫টি হাঁস আক্রান্ত হয়েছে।
দুর্যোগে ৬০টি গরু, ১১৫টি ছাগল, ৪৪টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৭৪টি মুরগি এবং দুই হাজার ৩১টি হাঁস মারা গেছে। এছাড়া প্রায় ১০ হাজার ৪৯ একর চারণভূমি প্লাবিত হওয়ায় পশুখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বন্যার প্রভাবে চার হাজার ৫৫০টি গবাদিপশুর খামার এবং ৩৪ হাজার ৩৫৭টি হাঁস-মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খামারগুলোর অবকাঠামো, খাদ্য ও উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রায় ৬১২ টন দানাদার পশুখাদ্য, ১৪ হাজার ১৯০ টন খড় এবং আট হাজার ৫৭৮ টন ঘাস নষ্ট হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রাণিসম্পদ খাতের আর্থিক ক্ষতি ১০০ কোটিরও বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বন্যার পরপরই প্রাণিসম্পদ বিভাগ মাঠপর্যায়ে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৩২১টি গবাদিপশু ও ১২ হাজার ৪২৭টি হাঁস-মুরগিকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সাত হাজার ৭৭৫টি গবাদিপশু এবং ৭৩ হাজার ২৬টি হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় রোগ প্রতিরোধ, মৃত পশুপাখি অপসারণ, জীবাণুনাশক প্রয়োগ, খামারিদের পরামর্শ প্রদান এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই থেকে টানা ছয় দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলা প্লাবিত হয়। এতে আট লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন এবং অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

