টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দেশের মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু মৎস্য খাতেই প্রায় ৩৬৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ৪৩টি জেলার ১ লাখ ১৪ হাজার ৭২৩ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় পুকুর, ঘের, খামার, মাছ, চিংড়ি, পোনা, জাল, নৌকা ও অবকাঠামো মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬৮ কোটি ৯৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে অবকাঠামোগত ক্ষতি প্রায় ৪৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং জলযানের ক্ষতি প্রায় ১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪২টি উপজেলার ৬০২টি ইউনিয়নের ৩০ হাজারের বেশি পুকুর, দীঘি, ঘের ও মাছের খামার বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ১৯ হাজারের বেশি পুকুর-দীঘি ও শত শত চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। শুধু এই বিভাগেই মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব বলছে, চট্টগ্রাম বিভাগেই প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খাদ্যসংকট, আশ্রয়হানি এবং রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে ৪৩ জেলার ১ লাখ ১৪ হাজার ৭২৩ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৪ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান, আমন বীজতলা এবং গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ।
এ ছাড়া মরিচ, আদা, হলুদ, পানবরজ, ফলবাগান ও পাটসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসলও ক্ষতির শিকার হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় কৃষি প্রণোদনা দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে পৌঁছেছে। বন্যায় ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মঙ্গলবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য নতুন বীজ সরবরাহ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

