AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
শফিকুল আলম

জুলাই হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ করা কঠিন


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭:৫৮ পিএম, ১২ জুলাই, ২০২৬

জুলাই হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ করা কঠিন

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। তার মতে, জাতিসংঘের নিরপেক্ষ তদন্তের ফলে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কঠিন।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জুলাই রেভুলেশন অ্যালায়েন্স’ আয়োজিত ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি, জাস্টিস অ্যান্ড হিলিং ইন পোস্ট জুলাই বাংলাদেশ’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের মাধ্যমে করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তার ভাষ্য, জাতিসংঘ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনা করে ১২৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদনটি তথ্য-প্রমাণনির্ভর ও শক্তিশালী হওয়ায় এর বিশ্বাসযোগ্যতা আন্তর্জাতিক পরিসরে সহজে প্রশ্নবিদ্ধ করা সম্ভব হবে না।

তিনি দাবি করেন, যদি এই তদন্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিবর্তে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে করানো হতো, তাহলে প্রতিবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হতো এবং বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করে তা বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হতো। কিন্তু জাতিসংঘের তদন্তের কারণে সেই সুযোগ তৈরি হয়নি।

জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তারা পৃথিবীর যেখানেই অবস্থান করুক, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার জন্য একটি শক্তিশালী ও নিবেদিতপ্রাণ সংস্থা গঠন করা প্রয়োজন। ওই সংস্থায় গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রসিকিউটরদের সমন্বয়ে কাজ করারও প্রস্তাব দেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রতি তিন মাস পরপর অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কে জনসাধারণকে হালনাগাদ তথ্য জানানো উচিত এবং তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছে কি না, সেটিও নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে অতীতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের অনেক ক্ষেত্রেই শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এবার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পোস্ট-জুলাই বাংলাদেশে ট্রমা সাপোর্ট, পুনর্মিলন (রিকনসিলিয়েশন) ও রূপান্তরমূলক ন্যায়বিচারের (ট্রানজিশনাল জাস্টিস) প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের দায়মুক্তির বার্তা না দেয়। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের আগে দায় স্বীকার ও ক্ষমা চাইতে হবে। যারা এখনো তাদের অপরাধ স্বীকার করেনি বা ক্ষমা চায়নি, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস হতে পারে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাস ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এই সময়ে নিহত ও আহতদের শনাক্ত করা এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোনো ক্ষতিপূরণই স্বজন হারানোর বেদনার সমান হতে পারে না।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের চেতনা ধরে রেখে শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাইকে নিয়ে একটি বৃহত্তর ‘জুলাই পরিবার’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।


একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!