AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ছেলের শেষ কথায় আবেগঘন স্মৃতিচারণ মায়ের


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬:৩৩ পিএম, ১২ জুলাই, ২০২৬

ছেলের শেষ কথায় আবেগঘন স্মৃতিচারণ মায়ের

‘মা, আমি রাজপথে যাচ্ছি। যদি মারা যাই, তাহলে আমার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ থেকে আমার লাশ উঠাবে না।’-১৮ জুলাই আন্দোলনে যাওয়ার আগে মা কাজী লুলুল মাকমিনকে এ কথাই বলেছিলেন তার ছেলে, ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থী শেখ ফাহমিন জাফর।

শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জুলাই রেভুলেশন অ্যালায়েন্স’ আয়োজিত ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি, জাস্টিস অ্যান্ড হিলিং ইন পোস্ট জুলাই বাংলাদেশ’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব স্মৃতিচারণ করেন কাজী লুলুল মাকমিন।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ছেলের মরদেহের সঙ্গে পাওয়া একটি চিরকুট বাসায় ফিরে পড়েন। সেখানে ফাহমিন লিখেছিল, ‘রক্ত যখন দিয়েছি তোর স্বাধীন দেশে, রক্ত দিয়ে আবারও স্বাধীনতা আনব।’ এই বিশ্বাস নিয়েই তার ছেলে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। তবে যে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের স্বপ্ন নিয়ে সে প্রাণ দিয়েছিল, দুই বছর পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কাজী লুলুল মাকমিন বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ। তার ভাষায়, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। তিনি বলেন, বিচার কার্যক্রম জনসম্মুখে হওয়া উচিত, যাতে মানুষ দেখতে পারে কীভাবে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা উচিত নয়; বরং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত হয়ে যারা প্রভাব খাটিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের রক্ষার যেকোনো চেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানান।

সন্তানের শেষ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কাজী লুলুল মাকমিন বলেন, গত ১০ জুলাই ছিল ফাহমিনের জন্মদিন। কয়েক দিন ধরেই তার চোখে ঘুম নেই। আন্দোলনে যেতে বাধা দেওয়ায় মৃত্যুর আগের দিন ছেলে তার সঙ্গে অভিমান করে সারাদিন কথা বলেনি। সেই শেষ অভিমান ও অসমাপ্ত কথাগুলো আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেভাবে তাদের সন্তানরা রাজপথে নেমেছিল, সেই চেতনা নিয়েই তারা ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত রাখবেন। অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ করা হোক।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!