AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭:২৭ পিএম, ১০ জুলাই, ২০২৬

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারাদেশে টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দ্রুত দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রেস সচিব আরও জানান, প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতা-কর্মীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাদের ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহাদী আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী একাধিক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যাকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। একই সঙ্গে জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার জন্য নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে চলমান বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি পদক্ষেপ হলো-

১। প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজখবর রাখছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিত জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

২। চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

৩। জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই পাঁচ জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব সহায়তা দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

৪। সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

৬। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় অবস্থান করছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

৭। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে তারা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এই সংকটে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে দায়িত্ব পালন করছে।

৮। ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

৯। দুর্যোগে হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

১০। টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

সরকারের আশা, দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!