AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ একাধিক প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪:০৪ পিএম, ২৯ জুন, ২০২৬

কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ একাধিক প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ মানুষের করের চাপ কমানো, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার, বেসরকারি উচ্চশিক্ষা ও দেশীয় শিল্পে কর-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণসহ একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরানো এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাজেট কেবল একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি একটি ‘জাতি পুনর্গঠনের বাজেট’। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

করদাতাদের ওপর চাপ কমাতে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন—২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪ লাখ টাকা করা হোক।২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে তা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হোক।২০৩০-৩১ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন তিনি।

জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের জটিলতা নিরসনে বাজেটে আনা বিশেষ বিধান নিয়ে জনমনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাব সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে টিআইএন (টিন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টির বেশি ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টির বেশি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করেছে।

উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা জোরদার, ভাষা শিক্ষা ল্যাব স্থাপন এবং মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাজেটে রাখা ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ডকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন, যাতে বৈধ মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ উৎসাহিত হয় এবং রাজস্ব আদায় বাড়ে।

দেশীয় উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালে শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে—চিংড়ি শিল্পের কাঁচামালে সব ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার।ওষুধ ও স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত মধুর ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার।পিভিসি ও পেট রেজিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা।বৈদ্যুতিক তার শিল্পে ব্যবহৃত রিফাইন্ড কপারের রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার।কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্পের কাঁচামালের শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা।এলইডি লাইট ও প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড ভবন শিল্পের কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো।

প্রধানমন্ত্রী আরও প্রস্তাব করেন—স্বর্ণ, হীরা ও রূপার অলংকারে ভ্যাট পুনর্নির্ধারণ।বিটিআরসির রাজস্ব ভাগাভাগির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার।মাছ সরবরাহের যোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাট বাতিল।স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা।

বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে সুপ্রিম কোর্টকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা এবং আইন মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

পরিবেশবান্ধব ও স্বল্প আয়ের মানুষের বাহন হিসেবে পরিচিত সাইকেলের ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব পরীক্ষা করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারসহ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে সব রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!