বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও সহযোগিতা জোরদারে জার্মানি এবং ইউরোপের আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
জানা যায়, ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান এবং এফএফওর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব পায়। ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। অপরদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে জার্মানি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় সমর্থন কামনা করেন।
জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে। এ সময় ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়ন এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সফরের শেষদিকে জার্মান প্রতিনিধি দল গাজীপুরের কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করে। সেখানে তারা তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

