জুনের শুরুতেই দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশের ৪৮টি জেলার ওপর মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, যা চলতি বছরে একসঙ্গে এত বিস্তৃত এলাকায় প্রথমবারের মতো দেখা গেল।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সাধারণত মে মাসের শেষদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও এবার তা এখনও পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় মাঝারি তাপপ্রবাহের প্রভাব বেশি অনুভূত হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ এবং বাতাসে উচ্চমাত্রার আর্দ্রতাও অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৬ শতাংশ, ফলে ঘাম দ্রুত শুকাতে না পারায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।
এদিকে বৈশ্বিক আবহাওয়াগত পরিস্থিতিও এ তাপপ্রবাহে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুর প্রবাহকে দুর্বল করতে পারে এবং বৃষ্টিপাত কমিয়ে দিতে পারে।
নগরাঞ্চলে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ বা তাপদ্বীপ প্রভাবও গরম বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে ঢাকায় কংক্রিটের অবকাঠামো, কমে যাওয়া সবুজায়ন, যানবাহনের তাপ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের নির্গমন শহরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে। এর ফলে শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, চলতি মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে তাপপ্রবাহের বিস্তার কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেছেন, মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি প্রবেশ করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাবে এবং তাপমাত্রাও কমতে শুরু করবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়বে। ফলে সপ্তাহের শেষ দিকে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কমে স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

