দেশে হামের টিকার ঘাটতি ও সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে কয়েক দফা সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারকে অন্তত ৫ থেকে ৬টি চিঠি পাঠানো হয় এবং বিষয়টি নিয়ে একাধিক জরুরি বৈঠকও করা হয়েছিল।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীতে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সংস্থাটির প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহ নীতিতে পরিবর্তন এনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগায় দেশে হামের টিকার সংকট আরও বেড়ে যায়।
রানা ফ্লাওয়ার্সের ভাষ্য, টিকা সংগ্রহ সাধারণ ওষুধ কেনার মতো নয়। এতে নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক অনুমোদনের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিসেফের মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত সময়ে টিকা আনা সম্ভব হলেও নতুন প্রক্রিয়ায় প্রায় এক বছর সময় লেগেছে।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই শিশু। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছে ৪৭৫ শিশু। গত আড়াই দশকে দেশে হামের এত বড় প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা ও সরবরাহ সংকটের কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে হামের সংক্রমণ তুলনামূলক কম ছিল এবং মৃত্যুর ঘটনাও ছিল না বললেই চলে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ ডোজ হামের টিকা আসে, যা মোট চাহিদার অনেক কম। বছরে দেশে প্রায় ৭ কোটি ডোজ টিকার প্রয়োজন হয়।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির প্রতিনিধি বলেন, মে মাসে নতুন করে হামের টিকা দেশে পৌঁছেছে এবং ইতোমধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
টিকা সংকট ও শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, ভবিষ্যতে যেন প্রতিরোধযোগ্য রোগে কোনো শিশুর মৃত্যু না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

