মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না বলে সংসদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা জোরদার করেছে সরকার।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য যাচাইয়ের জন্য মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মিয়ানমার তাদের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তিনি জানান, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে সফলভাবে প্রত্যাবাসন করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকারও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তৎপরতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের ইভেন্ট আয়োজন করা হয়, যেখানে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কক্সবাজারে অংশীজন সংলাপ আয়োজন, জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশন এবং ওআইসির বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলাটি বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ মামলায় গাম্বিয়াকে আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

