নেত্রকোনার মদন উপজেলায় কথিত ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারি (মিউটেশন) করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নাইব) মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে উপজেলার ‘শ্রেষ্ঠ ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পদারকোনা মৌজার ২১০ নম্বর বিএস/বিআরএস খতিয়ানের মালিক গোলাম আলী খাঁ ও করিমুন্নেছা, ২৯৮ নম্বর বিআরএস খতিয়ানের মালিক প্রমোদ চন্দ্র ও জীতেন্দ্র চন্দ্র এবং ৩৭৭ নম্বর বিআরএস খতিয়ানের মালিক যতীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, নগেন্দ্র চন্দ্র ভট্টাচার্য ও নিপেন্দ্র চন্দ্র ভট্টাচার্যের জমির ক্ষেত্রে ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ সালের দলিল নম্বর-৩১৭, ২৫ জুলাই ১৯৮৫ সালের দলিল নম্বর-৮০৫ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ সালের দলিল নম্বর-৪৯৯—এই তিনটি কথিত ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে ১৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ২৫-৬৪৩ নম্বর নামজারি (খারিজ) খতিয়ান খোলা হয়।
ভূমি আইন অনুযায়ী, নামজারির প্রস্তাব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে উৎকোচের বিনিময়ে নামজারির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠান।
এদিকে, ভুয়া বায়না দলিলের নকল ও ওই নামজারির কাগজ ব্যবহার করে দলিল নিবন্ধনের চেষ্টা করার অভিযোগে দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন মদন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে লেখক সনদ নম্বর-৪৪৭ধারী দলিল লেখক মো. রহিছ মিয়া প্রস্তুত করা একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য কার্যালয়ে জমা দেন। দলিলটি যাচাইয়ের সময় নামজারি ও বায়না দলিলের নকল পর্যালোচনায় দাখিল করা বায়না দলিলটি ভুয়া ও জাল বলে প্রতীয়মান হয়। এ বিষয়ে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমি অনেক আগেই ওই ইউনিয়ন থেকে বদলি হয়ে ফতেপুর ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করছি। তাছাড়া আমি সঠিক কাগজপত্রের ভিত্তিতেই নামজারির প্রস্তাব করেছি। এতদিন আপনারা (সাংবাদিকরা) কোথায় ছিলেন?”
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলীন নাহার বলেন, “আমরা এখনও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কাগজ পাইনি। কাগজ পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কোন বিবেচনায় ‘শ্রেষ্ঠ ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ বিষয়টি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

