স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ও ভারতে গ্রেপ্তারদের ফেরাতে বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুসারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শহিদ ওসমান হাদি হত্যার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এরইমধ্যে ভারতে প্রথমে দুইজন পরে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে আমরা আমাদের দূতাবাসকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি, যেন বাংলাদেশে তাদের প্রত্যাবর্তন করানো হয়।’
তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ আমরা আমাদের অনুরোধপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রেরণ করেছি। যেন বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুসারে আসামিদের আইনমাফিক বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
তিনি বলেন, পাকহানাদার বাহিনী যদি ২৫ মার্চ কালোরাতে এখানে ওই সময় হামলা না করতো তাহলে হয়তো স্বাধীনতার ঘোষণা আরও দুই-একদিন পরে হতে পারতো। কিন্তু এই ঘটনা আমাদের জাতিকে বাধ্য করেছে।
তিনি স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই গণহত্যার খবর পাওয়ার পরে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন তখনো পর্যন্ত পাকিস্তানি কমান্ডারের হুকুমে। তিনি অবগত হলেন রাজারবাগ পুলিশ লাইন গণহত্যা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ করা শুরু করেছে। সুতরাং এই মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হবে। তখনই তিনি মনস্থির করেছেন এবং ষোল শহরে তার নিজস্ব সামরিক বেইজে গিয়ে তার কমান্ডারকে রেস্ট করলেন। পরবর্তীতে তাকে হত্যা করা হয়।
বাঙালি অফিসারদের মধ্যে যারা তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাদের নিয়ে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি প্রথম প্রভিশনাল হেড অফ দি স্টেট হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে সারা বিশ্বের সমর্থন কামনা করেন এবং তারপরে তৎকালীন জাতীয় নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবার সংশোধিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এটাই প্রকৃত ইতিহাস।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

