নবীন, মধ্যপ্রজন্ম ও অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের সমন্বয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে যাচ্ছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিন প্রজন্মের রাজনীতিকদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানকে একত্র করার লক্ষ্যেই এ মন্ত্রিসভা সাজানো হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, নতুন সরকার পরিচালনায় প্রজ্ঞা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ও নীতিনির্ধারণমূলক সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে মন্ত্রিসভা হবে তুলনামূলক ছোট, তবে কার্যকর।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা হতে পারে ৩৫ থেকে ৪০ জনের মধ্যে। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী থাকতে পারেন ২৬ থেকে ২৭ জন। প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে ১০ থেকে ১২ জনকে। শেষ মুহূর্তে এক বা দুইজন যুক্ত হলে মোট সদস্যসংখ্যা ৩৭ জনের কাছাকাছি থাকতে পারে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শপথ অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত মহড়া সম্পন্ন করেন। মহড়ায় প্রায় ৪০ জন মন্ত্রিসভা সদস্য ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। শপথপত্র রাখার স্ট্যান্ডও প্রস্তুত রাখা হয় একই সংখ্যার।
নতুন মন্ত্রিসভায় যাঁদের নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এহসানুল হক মিলন, আফরোজা খান রিতা, রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, শামা ওবায়েদ, ফারজানা রহমান পুতুলসহ একাধিক নবীন সংসদ সদস্য ও কয়েকজন টেকনোক্র্যাট।
এছাড়া রাজনৈতিক ও নাগরিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা কিছু ব্যক্তিত্বের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিসভা গঠনের পুরো প্রক্রিয়ায় কড়া গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানায়, সাবেক এক আমলা, দলের এক প্রবীণ নেতা, একজন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর এবং একজন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তালিকা চূড়ান্ত করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যানের। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দক্ষ ও পরীক্ষিত ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে—এটাই প্রত্যাশা।”
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নেওয়া নিয়ে বিএনপির ভেতরে আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সংবিধান সংশোধন ছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। প্রয়োজনীয় সংশোধন হলে তবেই বিষয়টি বিবেচ্য হতে পারে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “দেশ পরিচালনায় সামনে বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠনই হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।”
তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া আস্থা মাথায় রেখেই নতুন সরকার কাজ করবে।
নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর মন্ত্রিপাড়ায় ৩৭টি সরকারি বাংলো প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য পরিবহন পুলে অন্তত ৬০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অন্যবারের মতো এবার কাউকে আগেভাগে ফোন করে জানানো হয়নি। শপথ অনুষ্ঠানে সবাই ব্যক্তিগত গাড়িতে উপস্থিত থাকবেন। শপথ শেষে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন তারা।
সংসদ নেতা নির্বাচনের পরই চূড়ান্ত মন্ত্রিসভার তালিকা ক্যাবিনেটে পাঠানো হবে। এরপর সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে শপথের জন্য জানিয়ে দেওয়া হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

