ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিতে যাচ্ছে। এই শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ভারত, পাকিস্তান, চীনসহ ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আমন্ত্রণ জানানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভারত, পাকিস্তান, চীন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই।
বিএনপির সূত্র জানায়, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকার এই ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। একই দিন বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এবারই প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের দরবার হলের পরিবর্তে উন্মুক্ত স্থানে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং বিএনপির একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে শনিবার জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের নির্বাচনী ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য অর্জন করেছে ৭৭টি আসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে।
দলভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়—বিএনপি ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, এনসিপি ছয়টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে বিজয়ী হয়েছে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

