AB Bank
  • ঢাকা
  • সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য সৃজনশীল মানুষ গড়ে তোলা : প্রধান উপদেষ্টা


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩:২৭ পিএম, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য সৃজনশীল মানুষ গড়ে তোলা : প্রধান উপদেষ্টা

শিক্ষা শুধু চাকরির উপযোগী জনশক্তি তৈরির জন্য নয়, বরং সৃজনশীল, স্বাধীন চিন্তাশীল ও উদ্ভাবনী মানুষ গড়ে তোলার জন্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, মানুষ জন্মগতভাবেই সৃজনশীল; কিন্তু প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা অনেক সময় সেই সৃজনশীলতাকে দমন করে কেবল চাকরির প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি)।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীলতা জাগ্রত করা এবং তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানো। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তা মানসিকতা, কল্পনাশক্তি ও নতুন কিছু তৈরির সাহস এই গুণগুলো শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে বিকশিত হওয়া জরুরি।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া একটি বিপুল সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এই অঞ্চলে তরুণ জনসংখ্যা, সৃজনশীল মেধা ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন এবং ভুল নীতিনির্ধারণের কারণে অনেক সময় এসব সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না। শিক্ষা হতে পারে সেই শক্তি, যা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে তুলবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে কেবল ডিগ্রি বা সনদ নয়, বরং চিন্তার গভীরতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং মানবিক মূল্যবোধই মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করবে। তাই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু পাঠ্যসূচি নির্ভর জ্ঞান নয়, বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে তা থেকে শেখার সুযোগ দিতে হবে। নতুন ধারণা বাস্তবায়নের পথে ব্যর্থতা আসবেই, কিন্তু সেই ব্যর্থতাই ভবিষ্যৎ সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেয়। শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের সেই সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগানো।

এরআগে উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা নিয়ে ৩ দিনের দক্ষিণ এশীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাগণ, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ এবং কূটনীতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

ইউজিসি কর্মকর্তারা জানান, হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইউজিসি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও এতে অংশগ্রহণ করছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি সম্মেলন শেষ হবে। এ ছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

তিন দিনে মোট আটটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিন আজ দুটি অধিবেশনে আলোচনা হবে— ‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা: শাসনব্যবস্থা, গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তি’ এবং ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক সম্পৃক্ততা’ বিষয়ে। দ্বিতীয় দিনে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম, স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথ: সহযোগিতা, সংহতি ও নেটওয়ার্কিং,উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনদের সংলাপ: নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বর এবং হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপটে উপাচার্যদের সঙ্গে সংলাপ।

শেষ দিনে উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর ‘ঢাকা উচ্চশিক্ষা ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।


উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!