পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নিখোঁজের দুই দিন পর নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দা থেকে পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রী আয়শার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একদিনের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য বলছে, নিজের মেয়ের ওপর এমন বর্বরতার ঘটনা খুবই বিরল। বাবার নির্দেশেই আয়শাকে গলায় টেপ লাগিয়ে হত্যা করেছেন তার চাচা। একই সঙ্গে ঘটনায় ধর্ষণের কথাও সামনে এসেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন—আয়শার বাবা বাবুল প্যাদা (৪৮) এবং চাচা রুবেল প্যাদা (৩৫)। একই দিন আয়শার বোন সাথী আক্তার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে রুবেল প্যাদাকে।
আদালতে ১৬৪ ধারায় রুবেল প্যাদার জবানবন্দি থেকে পুলিশ জানতে পারে, নিহত আয়েশার সমবয়সী এক মেয়ের সঙ্গে তার বাবা বাবুলের নিয়মিত অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি আয়েশা জানতে পেরে বোন ও প্রবাসী মাকে জানায়। এতে পরিবারে কলহ সৃষ্টি হয়। বাবুল নিজের সম্মান বাঁচাতে মেয়ে আয়শাকে মেরে ফেলতে চাচ্ছিলেন। এজন্য ভাই রুবেলকে নির্দেশ দেন এবং অর্থনৈতিক বিষয়ও মিটমাট করা হয়।
টাকার বিনিময়ে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটায় রুবেল বাবুলের সাহায্য নিয়ে ঘরে ঢুকে আয়শাকে গলায় টেপ লাগিয়ে হত্যা করেন। পরে বস্তাবন্দী করে লাশ রান্নাঘরের বারান্দায় রেখে যান।
অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, মেয়েটি নিখোঁজ বলে ওই দিন বিকেল থেকে তার খোঁজ শুরু হয়। পরের দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাবা বাবুল একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন। কিন্তু পুলিশের কাছে খবর পৌঁছার পরই নিজের বাড়ির রান্নাঘরের সামনে থেকে বস্তাবন্দী আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ওইদিন সন্ধ্যায় থানা হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মধ্যে রুবেল প্যাদা হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরদিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল তিনটায় তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দোলন হাসান স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন এবং পরে আদালত রুবেল প্যাদাকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল প্যাদা হত্যার আগে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি কেবল হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হুকুমের আসামি হিসেবে আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। এলাকাবাসী দাবি করছেন, এমন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। তারা বলেন, “এই ঘটনা শুধু একটি কন্যা শিশুর গলায় টেপ লাগিয়ে হত্যা নয়, এটি একটি জাতির জন্য ভয়াবহ সতর্কবার্তা। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য এমন ঘটনা সহ্যযোগ্য নয়।”
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় থানার পুরো টিম এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করেছে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

