সন্তানের জন্ম একটি পরিবারের জন্য আনন্দের মুহূর্ত হলেও এর সঙ্গে আসে নতুন দায়িত্ব, ব্যস্ততা ও জীবনযাপনের বড় পরিবর্তন। রাতের ঘুম কমে যায়, সময়ের বেশির ভাগটাই চলে যায় শিশুর যত্নে। ফলে অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নিজেদের সম্পর্কের চেয়ে বাবা-মায়ের দায়িত্বই বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
মনোবিদদের মতে, সন্তান জন্মের পর শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তনের কারণে দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতায় কিছুটা প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। অনেকের ক্ষেত্রেই সম্পর্কের আগের রসায়নে পরিবর্তন আসে। তবে এই দূরত্ব দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি। পাশাপাশি কিছু সহজ অভ্যাস দাম্পত্য সম্পর্ককে আবারও উষ্ণ ও দৃঢ় করে তুলতে পারে।
যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, দিনে অন্তত একটি খাবার একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাওয়ার সময় মোবাইল ফোন দূরে রেখে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলুন। দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার এই ছোট্ট সময় সম্পর্ককে আরও কাছাকাছি আনতে সাহায্য করে।
ভুল বুঝতে পারলে ক্ষমা চাইতে দ্বিধা করবেন না
ঝগড়া বা মতবিরোধ প্রতিটি সম্পর্কেই থাকে। কিন্তু নিজের ভুল স্বীকার করা এবং সময়মতো ‘সরি’ বলা অনেক বড় সমস্যাকেও সহজে মিটিয়ে দিতে পারে। কে আগে ক্ষমা চাইবে, সেই অহংকার ধরে রাখার চেয়ে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়াই বেশি প্রয়োজন।
রাতের কিছু সময় শুধুই একে অপরের জন্য রাখুন
দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর মোবাইল ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিন। সম্ভব হলে রাত ৯টা বা ১০টার পর ফোন সরিয়ে রেখে কিছু সময় শুধু দু’জন একসঙ্গে কাটান। গল্প করুন, অনুভূতি ভাগ করুন কিংবা নীরবে পাশে থাকুন-এগুলোও সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।
শুধু সংসারের কাজ নয়, একে অপরের অনুভূতিরও খোঁজ নিন
প্রতিদিনের আলোচনায় শুধু রান্না, বাজার বা দায়িত্বের বিষয় নয়, সঙ্গীর মানসিক অবস্থার কথাও জানতে চান। ‘আজ তোমার দিনটা কেমন গেল?’ বা ‘তোমার কেমন লাগছে?’-এমন প্রশ্ন অনেক অপ্রকাশিত অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে এবং ভুল বোঝাবুঝি কমায়।
মাসে অন্তত একটি দিন শুধুই দু’জনের জন্য রাখুন
বিশেষ সময় কাটাতে সবসময় ব্যয়বহুল আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। একসঙ্গে হাঁটা, কফি পান করা কিংবা কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানোও যথেষ্ট। সেই সময়টুকু শুধু স্বামী-স্ত্রীর জন্য রাখুন এবং সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব থেকে কিছুটা বিরতি নিন।
সন্তানের সামনে ঝগড়া এড়িয়ে চলুন
মতের অমিল হওয়া স্বাভাবিক, তবে তর্ক বা ঝগড়া সন্তানের সামনে না করাই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের পরিবেশ শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সংবেদনশীল বিষয়গুলো ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করাই উত্তম।
প্রয়োজন হলে সাহায্য নিতে সংকোচ করবেন না
অনেক সময় বিরক্তি বা ঝগড়ার মূল কারণ রাগ নয়, বরং অতিরিক্ত ক্লান্তি। তাই সব দায়িত্ব একা বহন করার চেষ্টা না করে সঙ্গী, পরিবারের সদস্য বা কাছের মানুষের সহায়তা নিন। নিজের অনুভূতি ও প্রয়োজন স্পষ্টভাবে জানানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যজন নিজে থেকেই সব বুঝে যাবে-এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান অবশ্যই পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, কিন্তু সেই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের যত্ন নেওয়াও সমান প্রয়োজন। কারণ একটি ভালোবাসাপূর্ণ ও স্থিতিশীল দাম্পত্য সম্পর্কই শিশুর জন্য নিরাপদ, ইতিবাচক এবং মানসিকভাবে সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

