AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

চট্টগ্রামে পানিবন্দী সাড়ে চার লাখ মানুষ


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
১২:৩৪ এএম, ১০ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামে পানিবন্দী সাড়ে চার লাখ মানুষ

অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা।

সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সব গ্রামই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে পৌরসভা ও রামপুর এলাকায় পানি ঢুকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। আশ্রয়ের জন্য ৮৯টি কেন্দ্র খোলা হলেও মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহে বেগ পেতে হচ্ছে। ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাঙ্গু নদী, ডলু নদী এবং হাঙ্গর খাল দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলে প্লাবন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা প্রশাসক জানান, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে ১০টি স্পিডবোট চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে নৌকার সাহায্যে দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আঁকন জানান, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে পুঁইছড়ি, নাপোড়া, ছনুয়া, সরল, শেখের খীল, বৈলছড়ী ও কাথারিয়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন।

চন্দনাইশ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, হাশিমপুর ও জোয়ারা ছাড়া প্রায় সব ইউনিয়নই বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে অন্তত ১৪ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্গতদের জন্য ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, সাঙ্গু ও ডলু নদীসংলগ্ন আমিরাবাদ, আধুনগর, পদুয়া ও লোহাগাড়া ইউনিয়নে পানি দ্রুত বেড়েছে। এর মধ্যে আমিরাবাদ ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এদিকে, গত রোববার থেকে টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের সহায়তায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী এসব ত্রাণ দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে বন্যাকবলিত মানুষের খাদ্যসংকট না দেখা দেয়।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!