লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া না গেলেও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুই অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে এলাকায়। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার কেন্দ্র ছিল ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে জানিয়েছে, এ ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ৩০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আতঙ্কিত মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলার তদারকির জন্য একজন জেনারেলকে দায়িত্ব দেন এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
ভাষণে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানালেও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি এলাকায় সতর্কতামূলকভাবে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রাথমিকভাবে ভেনেজুয়েলা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি দ্বীপের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
কারাকাসের চাকাও এলাকার মেয়র গুস্তাভো দুকে সায়েজ জানিয়েছেন, তার এলাকায় অন্তত দুটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কারাকাসে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। প্রায় ছয় দশক পর আবারও বড় ধরনের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশটি। বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে অপেক্ষা করছে বিশ্ব।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

