কয়েকদিনের দরপতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগের কারণে বাজারে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৪ সেন্ট বেড়ে ৭৮ দশমিক ১৫ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৩৩ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমার খবরে তেলের দাম কমেছিল। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনও উদ্বেগ রয়ে গেছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা বাজারকে প্রভাবিত করছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনও কাটেনি। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীরা এখনও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও নিম্নমুখী রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের মজুত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অগ্রগতি আগামী কয়েক সপ্তাহে বৈশ্বিক তেলের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

